রাজবাড়ী জেলা সদর উপজেলার উড়াকান্দা এলাকার পদ্মানদীতে বিশালাকৃতির একটি কুমিরকে ভেষে বেড়াতে দেখা গেছে । এতে পদ্মাপারের পাশাপাশি বিভিন্ন জনমানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
আজ শেষ দুপুরের দিকে উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ভেসে থাকতে দেখা যায় কুমিরটি।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, নদী তীরবর্তী এলাকাজুড়ে জনবসতি রয়েছে। সেখানকার বেশিরভাগ মানুষ নদীতে গোসল করে। পাশাপাশি রান্নার কাজেও নদী থেকে পানি নিয়ে ব্যবহার করেন। এছাড়া জেলেরা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। কুমির দেখায় এখন কেউ নদীতে নামতে সাহস করছে না অধিকাংশরাই। তবে কিছু মানুষকে দেখা গেছে এখনো তারা সাবধানতা অবলম্বন করতে। অপরদিকে নদীতে কুমির ভেসে থাকার খবরে নদীর পাড়ে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।
স্কুল শিক্ষক জাহাঙ্গীর বলেন, নদীতে কুমির দেখা যায় না এমনটাই শুনেছি। এর আগে কখনও দেখিনি। আজ দেখলাম শেষ দুপুরের দিকে সেটা আমার কর্মস্থলে অবস্থানরত থেকেই দেখলাম। কুমির দেখার আগ্রহ অনেকের মাঝেই আছে। আবার আতঙ্কও রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অনেকেই এখানে গোসল করতে আসে। নদীতে মাছ ধরতে নামে। যেকোনো সময় তাদের বিপদ হতে পারে। আমাদের বিদ্যালয়টিও একেবারেই নদীর ধারে। তাই আমাদের বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটা খুবই বিপদজনক পরিবেশ হয়ে দাড়িয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।
রাজবাড়ী সামাজিক বনায়ন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সহযোগী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর সায়েদুর রহমান জানান, কুমির ভেসে ওঠার স্থানে লোক পাঠানো হয়েছে। সরজমিনে সত্যতা পেলে খুলনা বন্যপ্রাণী ইউনিটকে জানানোর পাশাপাশি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) মো. তবিবুর রহমান বলেন, জেলায় পদ্মা নদীর তীরবর্তী অবস্থানে কুমির ভেষে বেড়ানোর বিষয়টি জানতে পেরে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্কুলে আমরা নির্দেশনা দিয়ে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এনডিসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানা মাত্রই ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছি। ঘটনার সত্যতা পেয়ে নদী তীরবর্তী এলাকায় এ বিষয়ে জনসচেতনতামূকক প্রচারণা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগকে বিষয়টি জানিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।