আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কালারমারছড়ায় ৭ মাসে ৮ জন খুন হয়েছে। ৮ জানুয়ারী (বৃহস্পতিবার) ২০২৬ ইং রাত ১১ টার সময় মারা যান আব্দু গফুর, ২০ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ২০২৫ ইং খুন হয় শফিউল আলম, ৫ মে (সোমবার) গভীর রাত্রে খুন হয় যুবদল কর্মী মামুন, ৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার সময় খুন হয় মাছ ব্যবসায়ী আবু তাহের, ৩১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ভোর ৬ টার সময় প্রতিবন্ধী ফরিদা ইয়াসমিন খুন হয়, ২৩ আগষ্ট (শনিবার) রাত ১০ টার সময় যুবদল কর্মী তোফাইল আহমদ খুন হয়, ২৪ আগষ্ট (রবিবার) ভোর ৫ টায় যুবদল কর্মী শাহাদত হোসেন প্রকাশ দোয়েল খুন হয়, ২১ সেপ্টেম্বর রবিবার রাত সাড়ে ৯ টায় সময় খুন হয়। দক্ষ শুটারের অস্ত্রের নিশানায় খুন হয়েছে এসব লোকজন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লম্বা তারেক ও জয়নাল বাহিনীর গুলি ও দায়ের কুপে আব্দুল গফুর প্রকাশ বার্মাইয়া গফুর (২৮) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়। গত ৫ জানুয়ারী রাত ১টার সময় উপজেলার কালারমারছড়া বাজারের পশ্চিম পাশে ফকিরজুম পাড়া পাহাড়তলী মাদ্রাসার পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ৮ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। নিহত আব্দুল গফুর ফকির জুমপাড়া পাহাড়তলী গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস প্রকাশ বার্মাইয়া ইউনুছ এর পুত্র।
নিহত আব্দুল গফুরের ছোট ভাই রকিয়ত উল্লাহ জানান, স্থানীয় ফকিরজুম পাড়া পাহাড়ী এলাকার আওয়ামীলীগ পন্থি শীর্ষ সন্ত্রাসী লম্বা তারেক বাহিনীর প্রধান লম্বা তারেক ও জয়নালের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়ে আমার বড় ভাইকে উপযুক্তপুরি কুপিয়ে গুলি করে। ৪ দিন চিকিৎসা শেষে মৃত্যু বরণ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, ২ দিনের মধ্যে বাড়ি ফেরার পথে রাতের আঁধারে প্রতিপক্ষ লম্বা তারেক বাহিনীর গুলিতে কালারমারছড়া ইউনিয়নের ফকিরজুম পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নূরুল আমিনের কনিষ্ঠ পুত্র শাহরিয়া আমিন সালমান (১৯) গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাটি ঘটেছে ৭ জানুয়ারী (বুধবার) সন্ধ্যার দিকে কালারমারছড়া বাজারের লাগোয়া ঝাপুয়া ফরেস্ট অফিসের সামনে। তাকে আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে একই সন্ত্রাসীরা ফিল্মি স্টাইলে গুলি চালিয়ে আহত করে তার বড় ভাই মৎস্য ব্যবসায়ী রশিদ আহমদকে।
স্থানীয়রা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না পুলিশ। আবার সন্ত্রাসীদের ওপর রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারছেন না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব বলেন, 'নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর অস্ত্রধারী ও শুটারদের অপতৎপরতার বিষয়ে পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এরই মধ্যে অস্ত্রধারী ও পেশাদার অপরাধীদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, সন্ত্রাসী বাহিনীর অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বে নিজ গ্রুপের সদস্যর হাতে এসব খুনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের বিরোদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।