শীতের আগমনে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় গ্রাম্যঞ্চলে শুরু হয়েছে কুমড়া বড়ি তৈরীর ধুম । বহু নারী- পুরুষ কুমড়া বড়ি তৈরীর কাজে জড়িত রয়েছেন। নিজেদের পরিবারের খাবারের জন্য এটি তৈরি করছেন। আবার কিছু এলাকায় বিক্রির জন্যও কুমড়া বড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। আবার এই শীত মৌসুমে বাড়তি আয়ের লক্ষ্যে অনেক নারী ও পুরুষ কুমড়া বড়ি তৈরি করছেন।
কুমড়া বড়ি, শীত মৌসুমের এক অনন্য খাবার। সাধারণত তরকারিতে এই কুমড়া বড়ি দিয়ে রান্না করা হয়। এতে তরকারির স্বাদ ও মান বৃদ্ধি পায়। চলমান শীতে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কুমড়া বড়ি তৈরী কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেক নারীরা। কিছু স্থানে তাদের সাথে যোগ দিচ্ছেন পুরুষরাও। শীতের সময় তৈরি কুমড়া বড়ি রেখে দেয়া যায় দীর্ঘ কয়েক মাস, বছরজুড়ে খাওয়া যায় বিভিন্নভাবে স্বাদের খাবার।
কুমড়া বড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত কয়েকজন নারী জানান, ‘শীতকাল কুমড়া বড়ি তৈরীর ভরা মৌসুম। এ সময় প্রায় প্রতিটা বাড়িতে কমবেশি কুমড়া বড়ি তৈরি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা বাজারে বিক্রি করাও হচ্ছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলের নারীরা বাড়তি আয়ের জন্য কুমড়া বড়ি তৈরীর কাজও করছেন।’
তারা আরো জানান, ‘ কুমড়া বড়ি তৈরীর প্রধান উপকরণ কলাইয়ের ডাল আর চাল কুমড়া। এর সাথে যোগ করা হয় লবনসহ সামান্য মসলাও। বাজারে প্রতি কেজি কলাই ডাল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা আর চাল কুমড়া ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাইজ হিসেবে চাল কুমড়া ৮০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে ক্রয় করা যায়। প্রতি কেজি কলাই ডালের সাথে ৩ কেজির মতো কুমড়ার মিশ্রণে কুমড়া বড়ি ভালো হয়। প্রথমে কলাই ডাল রৌদ্রে শুকিয়ে যাতায় ভেঙ্গে পরিস্কার করা হয়। সেই ডাল পানিতে ভিজিয়ে রেখে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হয়। সাধারণত সন্ধ্যা থেকে রাতভর অর্থাৎ প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ডাল পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরে শিল-পাটায় সেই ডাল বাটা হয়। আর চাল কুমড়া পিচ করে কেটে কুড়নিতে ঘষে মিহি করা হয়। এরপর দুইটির মিশ্রণ হাত দিয়ে ফেনিয়ে কুমড়া বড়ির উপকরণ তৈরী করা হয়। কেউ কেউ এর সাথে পেয়াজ, ওলকপি, মূলা, কঁচু ইত্যাদিও পরিমান মতো যোগ করেন। মাঠ, বাড়ির আঙ্গিনা, ছাদ বা খোলা জায়গায় পরিষ্কার কাপড় বা নেটে ভোর থেকে হাত দিয়ে বড়ি বসানো শুরু করা হয়। পাতলা কাপড়ে সারি সারি বড়ি বসানোর পর সেই বড়ি ৩/৪ দিন একটানা রৌদ্র শুকানো হয়। বড়ি শুকিয়ে গেলে কাপড় থেকে বড়ি উঠিয়ে পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।’
কুমড়া বড়ির কারিগররা বলেন, ‘এখন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুমড়া বড়ি তৈরীর মেশিনেও মাড়াই করে কলাই ডাল ও কুমড়া মিহি করা হচ্ছে।’
পৌর সদরের কলেজ পাড়ার সালমা খাতুন, স্বপ্না খাতুন জানান, ‘৩ কেজি কুমড়ার সাথে ১ কেজি কলাইয়ের মিশ্রণে কুমড়া বড়ি ভালো তৈরি হয়। এখন বাজারে খোসা ছাড়ানো কলাই ডাল পাওয়া যায়। ডাল ভালো হলে বড়ির স্বাদও ভালো হয়। এছাড়াও অনেকে কুমড়া বড়ির সাথে পেয়াজ মিশ্রন দিয়ে থাকেন। প্রতি কেজি ডালের হিসেবে কুমড়া বড়ি তৈরি করতে পারিশ্রমিক হিসেবে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে প্রতি কেজি ডালের হিসেবে কুমড়া বড়ি তৈরি করতে আনুমানিক ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা খরচ হচ্ছে। আর বাজারে প্রায় ৫’শ টাকার মতো কুমড়ার বড়ি বিক্রি হয়। এতে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে।’
অনেকে জানান, ‘কুমড়া বড়ি তরকারির একটি মুখরোচক উপাদান। এতে তরকারির স্বাদে যোগ হয় নতুন মাত্রা। শীত মৌসুমে কুমড়া বড়ি তৈরী করে অনেক নারীদের বাড়তি আয়ের সুযোগ হচ্ছে। তারা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন যেমন করতে পারেন তেমনি গ্রামীন অর্থনীতিতে ইতিবাচক সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।