মাঠের পর মাঠ জুড়ে সরষে ফুলের হলুদে আভা রাঙিয়ে দিয়েছে নভনাভিরাম দিগন্ত।এ যেন হলুদের সমারোহ। হলুদের শাড়িপরা তরুণীর সাজে সজ্জিত মাঠ। সরিষা ক্ষেত থেকে ভেসে আসা হলুদ ফুলের কাচা মিষ্ঠি গন্ধে চারিদিকে মাতোয়ারা। ফুলের ঘ্রাণে আকৃষ্ঠ হয়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছিরা প্রকৃতিকে আরও অপরুপ করে তুলছে।
দিগন্ত জুড়ে ফুলে ভরা সরিষা মাঠ দেখে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় সরিষার ফলন ভাল হয়। ৮০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে পাকা সরিষা কৃষকরা ঘরে তুলতে পারবেন।
লোহাগড়া উপজেলার মরিচ পাশা, চাচই, কামঠানা, কালনা, গন্ডব, আড়পাড়া, শিয়রবর, লাহুড়িয়া, দিঘলিয়া, মল্লিকপুর, আমডাঙ্গা, ধানাইড়, আড়িয়ারা, মাকড়াইল, চর আড়িয়ারা, আড়পাড়া এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন সরিষা ফুলের সমারোহ। সরিষা ফুলে ভোরে গেছে দিগন্ত মাঠ। সরিষা আবাদে লাভজনক হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় চাষ অনেকাংশেই বেড়েছে।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৫ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা বিগত মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশী। কৃষকরা উপলদ্ধি করছেন বোরো জমি ফেলে না রেখে আগাম রবি ফসল সরিষা, পেয়াজ, মসুর, মটর ডাল চাষ করা যায়। বিশেষ করে গত বোরো ও আমনের বাম্পার ফলনের পর এ বছর সসিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এরপর জমি চাষ করে মাঘ মাসে বোরো রোপন করতে কোন অসুবিধা হয় না। ফলে সরিষার মতো অতি অল্প সময়ের ফসলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
সরিষা চাষকৃত কৃষক প্রসাদ গাইনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, অন্যবারের তুলনায় এবার বেশি ফলন হবে। তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত মুনমুন সাহাো বলেন, ৩৩ শতাংশ জমিতে সরিষা চাষ করলে ৫-৬ জনের পরিবারের এক বছরের তেলের চাহিদা মিটে যায়। উপজেলায় এবার সরিষার ফলন বেশ ভালো হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বাজারে সরিষার দাম ভালো পাওয়া গেলে কৃষকের লাভের অংকটা একটু বেশি হবে। তিনি আরও বলেন, জমিতে বিঘায় ৪ মণ কোনো কোনো জমিতে ৬ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। এবার দাম ভালো পেলে আগামীতেও কৃষকেরা সরিষা চাষে অরো আগ্রহী হবেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রবীর কুমার দাস জানান, বারি সরিষা-১৪ ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছে। এর তেলের গুণাগত মানও অনেক ভালো। কৃষক তার উৎপাদিত সরিষার ভাল দাম পাবেন বলেও জানান কৃষি বিভাগের ওই কর্মকর্তা।