পৌষের শীতেই কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কনকনে হিমেল হাওয়ায় বিপাকে পড়েছে মানুষ। সবচেয়ে বেশি শোচনীয় অবস্থায় পড়েছে খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেনির মানুষেরা।
গতকাল রোববার ঢাকাসহ সারা দেশে দেখা গেছে তীব্র শীতের দাপট। গত কয়েক দিন ধরেই আবহওয়া অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন স্থানে নিম্ন তাপমাত্রার ব্যাপারে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে। এরই মধ্যে গতকাল থেকে রাজধানী শহরে সূর্যের দেখা নেই বললেই চলে।
রাজধানীর ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, ফার্মেগেট, বাংলামোটর, সেগুনবাগিচাসহ আরো কয়েকটি স্থান ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। কর্মচঞ্চল এই শহরে সকাল ৭টা থেকেই সড়কে অফিসগামী লোকজনের আনাগোনা দেখা গেলেও রোববার এমনটি দেখা যায়নি। অন্যান্য দিনের তুলনায় সড়কে লোকজনের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেছে ইন্দিরা রোডগামী লেগুনায় যাত্রীদের চাপ অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। লেগুনা চালক রাসেল বলেন, বাইরে অনেক বেশি ঠন্ডা। খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ না থাকলে মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। তিনি বলেন, আমার জীবনে ঢাকা শহরে এমন ঠান্ডা কখনও দেখি নাই। ওই লেগুনার যাত্রী সোহেল মিয়া বলেন, নয়টায় অফিস। প্রতিদিন আরো সকালে বের হই। আজ তীব্র শীতের কারণে বের হতেই এক ঘন্টা দেরি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, শীতের কারণে বাচ্চাদের ঠন্ডাজনিত রোগ হয়েছে। ফলে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে দুপুরেই চলে আসব।
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের সামনে দেখা মেয়ে বেশ কয়েকজন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালকের। তাদের মধ্যে খলিল নামের একজন জানান, শীতে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। শরীরে এখনও হালকা জ্বর রয়েছে। কিন্তু কিছু করার নেই। আমরা নিরুপায়। কাজ না করলে ভাত দেবে কে? তিনি বলেন, ১৫ বছরের রিকশা চালানোর জীবনে ঢাকায় কখনও এমন শীত লক্ষ করিনি। বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে আরো বেশি বাতাস বইতে শুরু করে। তখন নাক দিয়ে পানি পড়তে থাকে।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় তেজগাঁও কলেজের সামনে দেখা গেছে ফুটপাতে শীতের কাপড় কিনতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সেখানে আসা ক্রেতা খালিদ বলেন, জিনিস পত্রের যে দাম, কম টাকায় কোনো রকম শীত নিবারণের জন্য একটা কিছু কিনতে চাই। তিনি বলেন, যে টাকা আয় করি সেটা দিয়ে ভালো পোশাক কিনতে গেলে অর্ধেক মাস না খেয়ে থাকতে হবে। খালিদ বলেন, এবার শীতের দাপট অনেক বেশি। গত কয়েক দিন থেকে ঠান্ডাজনিত রোগ-বালাই নিয়ে অফিস করছি। কিছুই করার নেই।
অন্যদিকে রাজধানীর সাইন্সল্যাব, শাহবাগ, অফিসার্স ক্লাব সড়ক, হাইকোর্ট মোড়সহ আরো কয়েকটি স্থানে শীতে সাহায্য প্রার্থীদের লক্ষ করা গেছে। কনকনে শীতে একটা গরম কাপড়ের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অসংখ্য মানুষকে।