প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর: বাণিজ্য-বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

বাসস

জাতীয়

দুই দিনের সরকারি সফরে আজ মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ

2026-06-21T20:46:38+00:00
2026-06-21T20:46:38+00:00
  সোমবার, ২২ জুন ২০২৬,
৮ আষাঢ় ১৪৩৩
 
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর: বাণিজ্য-বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা
বাসস
রোববার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দুই দিনের সরকারি সফরে আজ মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক, প্রতিনিধিদল পর্যায়ের আলোচনা এবং উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

সফরকে ঘিরে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের শ্রমবাজারকেন্দ্রিক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, হালাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো নতুন ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর)-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়েও আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টরসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পাবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন কামনার বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার মালয়েশিয়া। দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার এবং একই সঙ্গে জ্বালানি, পাম অয়েল, শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধ ও কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়লেও দুই দেশের বাণিজ্যে এখনো বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগোলে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ বাসসকে বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনা পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা দেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে জনশক্তি খাত ছাড়া বর্তমানে বড় কোনো অমীমাংসিত বিষয় নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমবাজারই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা ও হালাল অর্থনীতির মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। এবারের সফরের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আনোয়ার শহীদের ভাষ্য, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হলেও বাংলাদেশের রপ্তানির অংশ তুলনামূলক কম। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং অন্যান্য মূল্য সংযোজনকারী পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো গেলে রেমিট্যান্স আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

মালয়েশিয়াপ্রবাসী ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সাবেক পরিচালক মাহবুব আলম শাহ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে। তার মতে, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্প, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং হালাল শিল্পে আগ্রহ রয়েছে। সফরের পর সরকারি পর্যায়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে সেই আগ্রহ বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নিতে পারে।

তিনি বাসসকে বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই শুধু শ্রমিক পাঠানোর পরিবর্তে প্রশিক্ষিত কর্মী, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন রেমিট্যান্স আয় বাড়বে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে।

মাহবুব আলম শাহ বলেন, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর এটি উপযুক্ত সময়। 

মালয়েশিয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। এ খাতে প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ ও সনদায়নে সহযোগিতা জোরদার করা গেলে বাংলাদেশের খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। 

মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। যৌথ গবেষণা, কারিগরি শিক্ষা এবং শিল্পের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা গেলে তা উভয় দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

ব্যবসায়ীদের মতে, সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সফর-পরবর্তী বাস্তবায়নের ওপর। এফটিএ-সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নেওয়া, বিনিয়োগ সহজীকরণ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারত্ব বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পাঁচ দশকের বেশি সময় পর এবারের সফরকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: