বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবচেয়ে বড় সুযোগ হচ্ছে প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো—এমন মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের গবেষকদের মেধা, ১৮ কোটি মানুষের সম্ভাবনা এবং উদ্ভাবনের সুযোগ বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি। এ সম্ভাবনাকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।
রোববার (২১ জুন) ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সের মাল্টিপারপাস হলে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্টের ফেলোদের গবেষণা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও লব্ধ জ্ঞান মূল্যায়ন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আরও বলেন, অনেক দেশের পর্যাপ্ত সম্পদ ও অর্থ থাকলেও তাদের মানবসম্পদের ঘাটতি রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশ সামনে এগোতে পারবে না, কারণ তাদের প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ নেই। তবে বাংলাদেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে না; এটি পরামর্শ দিতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয় মানুষ। আর সেই মানবসম্পদ বাংলাদেশের রয়েছে, যা অনেক দেশের নেই। দেশের তরুণ বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে ভালো করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আনোয়ার হোসেন বলেন, আগামী দিনে গবেষণার ফলাফলকে বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে গবেষণার ফলাফলকে বাজারে নিয়ে যাওয়া। গবেষণাকে বাস্তব জীবনের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে কাজে লাগানোই বড় চ্যালেঞ্জ, যা এককভাবে গবেষকদের পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, গবেষণার ফল কীভাবে কাজে লাগানো যাবে, কী সহযোগিতা প্রয়োজন—এসব বিষয়ে গবেষকদের প্রস্তাব দিতে হবে। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব বলেন, গবেষণার ফলাফল যেন জীবনমান ও অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, সেটিই মূল লক্ষ্য। শুধু গবেষণা করাই যথেষ্ট নয়; সেটি বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর এবং খাতভিত্তিক হতে হবে। গবেষণার শুরুতেই এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে, যাতে বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়।
তিনি বলেন, গবেষণার একটি বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে রপ্তানি বহুমুখীকরণ। বর্তমানে দেশের রপ্তানি পণ্যের বড় অংশ প্রায় ৮৫ শতাংশ গার্মেন্টস খাতনির্ভর। বাকি ১৫ শতাংশ অন্যান্য পণ্য। অন্যান্য খাতের পণ্য উন্নয়ন ও মানোন্নয়ন করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নেওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ, যা গবেষণার মাধ্যমে সম্ভব।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলো ড. আবু হেনা মুহাম্মদ ইউসুফ ‘Unlocking The Blue Economy: Marine Spatial Planning (MSP) For The Sustainable Ocean Governance In The Bay Of Bengal’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি সমুদ্র সম্পদের তথ্যভিত্তিক অবকাঠামো গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন এবং ব্লু ইকোনমি সেলকে আরও শক্তিশালী করার সুপারিশ করেন। পাশাপাশি সমুদ্রসম্পদ আহরণের জন্য একটি শক্তিশালী একক সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
এ ছাড়া সেমিনারে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, খুলনা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা তাদের গবেষণা উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও যুগ্মসচিব একেএম শওকত আলম মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিসিএসআইআর-এর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ।
সেমিনারে ফেলোশিপপ্রাপ্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ছাত্রছাত্রী ও গবেষকরা অংশ নেন।