হাড়কাঁপানো শীতে যখন বিপর্যস্ত শৈলকুপার জনজীবন, তখন আর্তমানবতার সেবায় আবারও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম মতিউর রহমান। দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকায় প্রকাশিত খবর দেখে বিচলিত হয়ে শৈলকুপার দুর্গত শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের জন্য ২০০টি উন্নতমানের সোয়েটার পাঠান।
গত পহেলা জানুয়ারি দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকায় "শৈলকুপায় হাড়কাঁপানো শীত বিপন্ন মানবতা" শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটিতে শৈলকুপার দরিদ্র মানুষের শীতকষ্টের করুণ চিত্র ফুটে ওঠে। প্রতিবেদনটি নজরে আসার পরপরই পাংশা উপজেলার কৃতি সন্তান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এস এম মতিউর রহমান ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শৈলকুপা প্রতিনিধি এম হাসান মুসার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন এবং বিপন্ন শিশুদের ও বয়োবৃদ্ধদের জন্য দ্রুত ২০০টি উন্নতমানের সোয়েটার পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেবার ব্রত এটি কোনো সাময়িক সাহায্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক অবিচল অঙ্গীকার। ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছরই নিয়ম করে শৈলকুপা উপজেলার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন এই জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব। প্রতি বছরই তার পক্ষ থেকে কয়েক শত দুস্থ মানুষের মাঝে উন্নতমানের কম্বল, সোয়েটার ও মাফলার বিতরণ করা হয়।
জেনারেল মতিউর রহমানের এই তাৎক্ষণিক সাড়ায় এলাকায় প্রশংসার জোয়ার বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হয়েও নিজ এলাকার পার্শ্ববর্তী জনপদের মানুষের প্রতি তার এই মমত্ববোধ বিরল। সংবাদ দেখে এভাবে এগিয়ে আসা সমাজের অন্য বিত্তবানদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।
এ বিষয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এস এম মতিউর রহমান জানান, মানুষের কষ্ট দেখে ঘরে বসে থাকা সম্ভব নয়। সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই ক্ষুদ্র উপহার যদি কারো শীতের কষ্ট লাঘব করে, তবেই আমার চেষ্টা সার্থক।