চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন ও তার স্ত্রী শাহনাজ আক্তারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় ৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দুটি দায়ের করার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।
তদন্ত প্রতিবেদন ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, জিয়াউল হক সুমন তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকার সম্পদের হিসাব দেন। তবে তদন্তে তার নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯১ হাজার ৫৬৪ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এ হিসাবে তিনি প্রায় ৯৯ লাখ ১ হাজার ৩২৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া সুমনের গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪ টাকা। কিন্তু তিনি ১ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ৩৫২ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে মিলছে না। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
আরও জানা যায়, একই দিনে দায়ের করা আরেকটি মামলায় সুমনের স্ত্রী শাহনাজ আক্তারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় জিয়াউল হক সুমনকে সহযোগিতার অভিযোগে দ্বিতীয় আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, শাহনাজ আক্তারের নামে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৯ টাকার সম্পদ রয়েছে, অথচ তার গ্রহণযোগ্য আয় মাত্র ৬৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ফলে তার ক্ষেত্রে ২ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার ২৬৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদকের উপসহকারী পরিচালক আপেল মাহমুদ বিপ্লব বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, স্বামী জিয়াউল হক সুমনের অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে শাহনাজ আক্তার এসব সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সেটিও আমলে নেওয়া হবে।