সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে চলমান প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। শীতের তীব্রতা ও কুয়াশার দাপটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কৃষিখাত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যানবাহন চলাচলে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।
উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন—উমরপুর, সাদীপুর, পশ্চিম পৈলনপুর, বুরুঙ্গা, গোয়ালাবাজার, তাজপুর, দয়ামীর ও উছমানপুর—সবখানেই একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে পুরো এলাকা। ফলে সকাল থেকে কোথাও সূর্যের আলো দেখা যায়নি।
প্রচণ্ড শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বোরো ধান চাষিরা। বীজতলা ও সদ্য রোপণ করা ধানের ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। অনেক কৃষক জানান, কুয়াশা ও শীতের কারণে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে।
এদিকে শীত ও কুয়াশার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা কাজের অভাবে পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না, ফলে হাট-বাজারেও ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে।
ঘন কুয়াশার প্রভাব পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও। সিলেট–ঢাকা মহাসড়কসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহনগুলোকে দিনভর হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় যানবাহন চালকরা ধীরগতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রচণ্ড শীত থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে কিংবা গরম কাপড় ব্যবহার করে সময় পার করছেন। তবে নিম্ন আয়ের মানুষ ও শিশু-বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, শীতার্ত ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদার করা প্রয়োজন।