চট্টগ্রাম সাতকানিয়া আমিলাইশ ইউনিয়নে স্বামী-শাশুর বাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গালায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে গৃহবধূ রেশমা সুলতানা রিফা।
শনিবার ((০৯ নভেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার কেরানিহাট আশশেফা হাসপাতাল থেকে,নিহত গৃহবধূর রেশমা সোলতানা রিফা (২৪)'র মৃতদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহত রেশমা উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের সফর আলী সিকদার বাড়ি এলাকার আব্দুর রহমানের মেয়ে। পরিবারের দাবি, স্বামী মহিউদ্দিন (৩৫) ও শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে রেশমা গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
মেয়ের বাবা আব্দুর রহমান বলেন, ৩ বছর আগে পারিবারিকভাবে আমাদের পার্শ্ববর্তী আমিলাইশ ইউনিয়ন পশ্চিম ডলু, ৭ নম্বর নম্বর ওয়ার্ড, গ্রামের প্রবাসী মহিউদ্দিনের সঙ্গে আমার মেয়ে রেশমা সুলতানা রিফার, বিয়ে হয়।তাদের ২ বছর বয়সী এক ছেলে আছে,মেয়েটি দুই মাসের গর্ভবতী ছিল।মেয়েকে বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী ননদ ননদের জামাই তার মা-কারণে-অকারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের পাশাপাশি কথায় কথায় মরে যেতে উসকানি দিতেন। বিষয়টি সে আমাকে জানালে আমি জামাইকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আমাকে হুমকি-ধমকি দেন।
নিহত রেশমার বাবা আব্দুর রহমান আরও অভিযোগ করে বলেন,আমার মেয়ের স্বামীর অনুরোধে আমার মেয়েকে আমার বাড়িতে ১১ মাস দেখেছিলাম,শশুর এবং স্বামীর কথা অনুযায়ী,গত ৩ দিন আগে তার শ্বশুর বাড়ি দিয়ে আসি।দিয়ে আসার ৩ দিন পর আমার মেয়ে লাশ হয়ে গেছে।যাহা কোনভাবে আমি মেনে নিতে পারছি না।তারা আমার মেয়েকে গলায় ফাঁসি দিয়ে মেরে ফেলেছে।আমি তাদের ফাঁসি চাই।
সাতকানিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি)মোস্তফা কামাল খাঁন বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্তে নামে এবং কেরানিহাট আশশেফা হাশফাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করি। রেশমার শশুর শাশুড়ি ননদ কে থালায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পোস্ট মডেমের রিপোর্ট আসলেই বিস্তারিত জানা যাবে,মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে সাতকানিয়া থানার পুলিশ টিম তৎপর রয়েছে।