সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মেরিনা খাতুন বাংলাদেশের প্রথম ‘যুদ্ধশিশু’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন। মেরিনা খাতুনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।মেরিনা খাতুন উপজেলার প্রয়াত বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা পচি বেওয়ার মেয়ে।
যুদ্ধশিশু মেরিনা খাতুনের আর কোথাও পিতার নাম লেখার প্রয়োজন হবে না। পিতার নাম ছাড়াই তিনি রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
জানা গেছে গত (৫ মে) রবিবার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ৮৯তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে তাড়াশের বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা পচি বেওয়া ২০১৮ সালের ৪ জুলাই বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পান। যার গেজেট নম্বর-২০৫। তার মেয়ে মেরিনা খাতুন যুদ্ধশিশু হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য গত ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ৮২তম সভায় মন্ত্রী বিষয়টি উথাপন করেন। সেখানে আলোচনা সভায় যুদ্ধশিশু হিসেবে মেরিনা খাতুনকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় স্থানীয় রাজাকাররা তাড়াশ উপজেলা সদরের উত্তরপাড়া মহল্লার মৃত ফাজিল আকন্দের বিধবা স্ত্রী পচি বেওয়াকে (বর্তমানে মৃত) বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পাক বাহিনীর সামরিক ক্যাম্পে। তারপর সেখানে ওই নরপিশাচরা বীরাঙ্গনা পচি বেওয়ার উপর পাশবিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে নিমর্মভাবে নির্যাতন চালায়। আর পাক-হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের ফলে জন্ম হয় যুদ্ধশিশু মেরিনা খাতুনের।
এ বিষয়ে দেশের প্রথম যুদ্ধশিশু হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া মেরিনা খাতুন বলেন, আমাকে স্বীকৃতি প্রদানের সিদ্ধান্ত সম্বলিত পত্র এখনো হাতে পাইনি। তবে আমাকে স্বীকৃতি প্রদানে আমি আনন্দিত। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের মতো যুদ্ধশিশুদের আর্থিকভাবে সম্মানী ভাতা প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।"