৩০ বিঘা জমিতে শরিফা ফলের চাষ করেন পাবনার কৃষক শাহজাহান আলী। এছাড়া পাঁচ-ছয় বিঘা জমিতে আতা, বেল, কদবেলসহ বিভিন্ন অপ্রচলিত ফলের বাগান করেছেন এ উদ্যোক্তা।
তিনি জানান, সাধারণত মানুষ অপ্রচলিত এসব দেশি ফল নিয়ে কম ভাবলেও ইদানিং এর চাষাবাদ বাড়ছে। এছাড়া বাজার তৈরির পাশাপাশি দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অনেকেই এগুলো চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, দেশে প্রায় ১৩০ ধরনের অপ্রচলিত ফল রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ ধরনের ফল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে এবং স্বল্প পরিসরে চাষও হয়। দেশে অপ্রচলিত ফলগুলোর মধ্যে রয়েছে আতা, শরিফা, বিলম্বি, করমচা, গাব, বিলাতি গাব, বিচিকলা, গোলাপজাম, ডেউয়া, আঁশফল, জামরুল, বেল, কদবেল, চালতা, সফেদা, লটকন, তিতিজাম ইত্যাদি।
ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি এসব ফলের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের কৃষি বিভাগেরও রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা। এর উৎপাদন ও সম্প্রসারণে ২০২০ সালে তিন বছর মেয়াদি একটি কর্মসূচি হাতে নেয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে এ কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের জুনে। এর মাধ্যমে ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের ১৫ উপজেলায় অপ্রচলিত সব ফল গাছের সমন্বয়ে মিশ্র ফল বাগান ও বসতবাড়িতে ফল বাগান তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়।
এ বিষয়ে অপ্রচলিত ফল উৎপাদন কর্মসূচির তৎকালীন পরিচালক মাসুমা জান্নাত বলেন, আমাদের কর্মসূচির মাধ্যমে অপ্রচলিত ও বিলুপ্তপ্রায় কিন্তু বাজারে অর্থনৈতিক মূল্য আছে এমন ফলগুলো কৃষকের চাহিদার ভিত্তিতে দিয়েছিলাম। যেমন- আতা, শরিফা, কদবেল, বেলসহ বিভিন্ন ফল চাষে কৃষক আগ্রহী হয়েছেন। প্রায় ৩০০টি বাগান আমরা করেছি, যার প্রত্যেকটিতে ৪০টি করে গাছ ছিল। আমাদের প্রকল্প থেকে যেসব প্রদর্শনী দেয়া হয়েছিল এখন সেসব গাছে ফুল বা মুকুল আসতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, মানুষ এখন অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় পুষ্টি নিয়ে সচেতন। আমাদের দেশীয় ফলগুলোয় প্রচুর পুষ্টি রয়েছে। এ কারণে অনেকেই সখের বশে চাষ করছেন। আবার সচেতনতার কারণে এর একটি বাজারও তৈরি হয়েছে। বেল, কদবেল, আতা, শরিফা এসব ফল এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে। কৃষকও লাভবান হচ্ছেন। আবার আগে উন্নত জাত ছিল না। এ কারণে অনেকেই এসব ফল চাষাবাদে আগ্রহ পেতেন না। কিন্তু এখন বারি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন জাত এনেছেন। আরো ভালো জাত বা জাতের সহজলভ্যতা নিশ্চত করতে পারলে কৃষক আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে জামরুল উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৭৬৭ টন। এছাড়া আতা ৫ হাজার ৭৭০ টন, লটকন ২ হাজার ৪০৯, শরিফা ২ হাজার ২২৯, করমচা ১৬৬, ডেউয়া ১ হাজার ৬২৯, কদবেল ৩০ হাজার ৯, চালতা ১০ হাজার ৫৩১ এবং সফেদা উৎপাদন হয়েছে ৬ হাজার ৫৭৩ টন।
উৎপাদিত এসব ফল এখন রফতানিও হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে লটকন, কদবেল, চালতা, বেল, সফেদা, গাব ও বরই বিভিন্ন দেশে রফতানি করে বাংলাদেশ।