বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নিরাপত্তা নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে জাতীয় ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরীক্ষা কার্যক্রম চলবে আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত।
ICAO-এর Universal Security Audit Programme–Continuous Monitoring Approach (USAP-CMA)-এর আওতায় এ নিরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। সোমবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেবিচকের চেয়ারম্যানের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের নিরাপত্তা তদারকি কাঠামো, কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা তুলে ধরা হয়। এ সময় বাংলাদেশের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আলমগীর দেশের বিমান নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থা সম্পর্কে ICAO-এর অডিটর দলকে অবহিত করেন। পরে অডিটর দলের টিম লিডার কলাম ভাইন (Callum Vine) জাতীয় ব্রিফিং দেন।
অনুষ্ঠানে ICAO-এর অডিটর দলের সদস্য এবং বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ের সমাপনী বক্তব্যে এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল নিরীক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি নিরীক্ষার প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য নির্ভুলভাবে এবং নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাক্ষাৎকার ও পর্যবেক্ষণের জন্য প্রস্তুত রাখা, নির্ধারিত বিমানবন্দর ও স্থাপনাগুলোতে অডিটর দলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় সমন্বয়কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।
জাতীয় ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে নিরীক্ষা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং দেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
ব্রিফিং শেষে ICAO অডিটর দলের সদস্যরা বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় চেয়ারম্যান বলেন, ICAO-এর নিরাপত্তা অডিট শুধু একটি মূল্যায়ন কার্যক্রম নয়; আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থা পর্যালোচনা, অর্জন চিহ্নিত করা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্র নির্ধারণেরও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিরীক্ষায় পাওয়া পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ দেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান আরও বলেন, নিরীক্ষায় পাওয়া পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে বেবিচক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ICAO নিরাপত্তা অডিট ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এ নিরীক্ষার মাধ্যমে দেশের বিমান নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।