সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর প্রেমের সম্পর্ক—সবই ছিল পরিকল্পিত ফাঁদ! সেই ফাঁদে ফেলে ব্যবসায়ীসহ বিত্তবান পুরুষদের নির্দিষ্ট বাসা বা হোটেলকক্ষে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সেখানে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখানো ও শারীরিক নির্যাতনের পর আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণ করে সেগুলো প্রকাশের হুমকি দিয়ে আদায় করা হতো টাকা। একবার টাকা দিয়েও মিলত না রেহাই; চলত নতুন করে অর্থ দাবির চাপ।
‘হানিট্র্যাপ’ কৌশলে ব্ল্যাকমেল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ওয়ারী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর তুরাগ থানার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবদুর রহমান (৩৮), প্রীতম বিশ্বাস ওরফে অনিক শেখ (৩০), অর্থজীৎ ভক্ত ওরফে সিদ্ধার্থ (২০), সাবরিন কবির প্রেমা ওরফে নেহা (২২) এবং সাদিয়া ইয়াসমিন ওরফে মাহি (২১)। পুলিশের ভাষ্য, আবদুর রহমান চক্রটির মূল হোতা।
অভিযানে পাঁচটি মুঠোফোন, তিনটি ফাঁকা চেক ও একটি টর্চার বেল্ট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি ওয়ারী বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, চক্রটির নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যবসায়ীসহ বিত্তবান পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে কৌশলে তাঁদের নির্ধারিত বাসা বা হোটেলকক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে চক্রটির অন্য সদস্যরা তাঁদের জিম্মি করে ভয় দেখাতেন এবং শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ।
এরপর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, টাকা দেওয়ার পরও ভুক্তভোগীদের পিছু ছাড়তেন না চক্রের সদস্যরা; নতুন করে অর্থ দাবি করা হতো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে চক্রটি ঘন ঘন বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করত বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো।
এ ধরনের প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেল থেকে সতর্ক থাকতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি। কেউ এমন ঘটনার শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)