আক্রান্ত প্রায় এক লাখ
হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ, চিকিৎসা দিতে হিমশিম দশা স্বাস্থ্যকর্মীদের
সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। আক্রান্ত ও মৃত্যু থামানো যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে সময়মতো সঠিক পদক্ষেপের অভাবে এবার বেশ ভোগাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। তাছাড়া এবার থেমে থেমে বৃষ্টি এডিস মশার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করায় ভয়াবহ হয়ে উঠেছে চিত্র। বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই ঊর্ধ্বমুখী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্যমতে, গতকাল দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে মারা গেছে ৫৮ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় চলতি বছরের সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ১৯৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ২৭৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৭৯৬ জন। এ পর্যন্ত মোট ৯২ হাজার ৪০৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
২০২৫ সালের একই সময়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৩,১৯৩ জন এবং মৃত্যু ঘটেছিল ২২৪ জনের। অর্থাৎ ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই ঊর্ধ্বমুখী।
চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে সেপ্টেম্বরে। মাসটিতে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি ১৪৮ জন মারা গেছেন। এর আগে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল পাঁচজনের। জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। অর্থাৎ বছরের মোট মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি হয়েছে সেপ্টেম্বরেই। আর চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে মারা গেল ৫৮ জন।
ডেঙ্গুর এই বিস্তারের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে দীর্ঘদিনের মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে। বিশেষ করে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানো, লার্ভা ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চললেও নতুন রোগীর সংখ্যা কমছে না। ফলে শুধু রাজধানীর মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করলেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলানোর সক্ষমতা, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং জটিল রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধনের ওপর নির্ভর না করে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে জোর দেওয়ার কথা বলে আসছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বাড়ির ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেন ও জমে থাকা পানিতে এডিসের লার্ভা তৈরি হলে প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাই সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।