
তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হওয়ার পর আফগানিস্তানের ইনিংসে দ্রুত আঘাত হানে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে ইবাদত হোসেন ৩২ রান করা ইকরাম আলিখিলকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন। এরপর বল হাতে ঝড় তোলেন হাসান মাহমুদ। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে মুহূর্তেই চাপে পড়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ।
হাসানের হ্যাটট্রিকের শুরু ইসমত আলমকে বোল্ড করার মধ্য দিয়ে। পরের বলেই কাইস আহমদকে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন এই ডানহাতি পেসার। তাতে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি হয়। পরের বলে জিয়াউর রহমানের বিপক্ষে জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদন করেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। আম্পায়ার সাড়া না দিলে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত রিভিউ নেন। টিভি রিপ্লেতে বল সরাসরি প্যাডে আঘাত করেছে দেখা যাওয়ায় সিদ্ধান্ত বদলে জিয়াকে আউট ঘোষণা করা হয়। তাতেই পূর্ণ হয় হাসানের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক।
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এর আগে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী। ২০০৩ সালে পেশোয়ারে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেন অলক কাপালি। এরপর ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন সোহাগ গাজী। এবার তাঁদের পাশে নিজের নাম লেখালেন হাসান মাহমুদ। তবে পেসার হিসেবে এই প্রথম এমন অর্জন বাংলাদেশের কোনো বোলারের।
হাসানের এই সাফল্যে আবুধাবি টেস্টে চালকের আসনে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে চার উইকেটে ২১৪ রান করেছিল আফগানিস্তান। তৃতীয় দিনের শুরুতে ইবাদতের আঘাতের পর হাসানের হ্যাটট্রিকে ২২০ রানেই অষ্টম উইকেট হারায় আফগানরা।
হাসানের এই কীর্তি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে পেস বোলিংয়ের ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।