
উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ প্রদেশের প্রিলুকি জেলায় একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর হতাহতের ঘটনা ঘটে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, হামলার সময় ভবনটির বাসিন্দাদের অনেকে ঘুমিয়ে ছিলেন। বিস্ফোরণের পর পাঁচতলা ভবনটির একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র এক বছর এবং অপর একজনের বয়স আট বছর। পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের কথা জানায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রিলুকির ওই আবাসিক ভবনে হামলায় মোট ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে।
হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে সাত শিশুও রয়েছে। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকা ও মানুষের জীবনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। ৪০ বছর বয়সী ওলেনা সায়ুন এএফপিকে জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি ও তাঁর স্বামী সন্তানকে নিয়ে ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের ধাক্কায় জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং পরিবারের সদস্যরা আহত হন। তাঁর ভাষ্য, আতঙ্কে শিশুটিকে নিয়ে তাঁরা দ্রুত বাথরুমে আশ্রয় নেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকি এলাকায় হামলা শুরু হয়। এর আগের দিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়া অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এসব হামলার মধ্যে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
এদিকে হামলার আশঙ্কায় কিয়েভের অনেক বাসিন্দাকে রাত কাটাতে মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কম্বল ও শোয়ার মাদুর নিয়ে অনেকে সেখানে অবস্থান নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মধ্যে শীত মৌসুম সামনে রেখে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলার মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে।
সূত্র: এএফপি