
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুধবার তিনি এ তথ্য জানান। সৌদি আরবের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোর প্রেক্ষাপটে সৌদিতে পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দেশটির বাহিনী সেখানে আগে থেকেই রয়েছে।
শরীফ চৌধুরীর ভাষ্য, সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতি সাম্প্রতিক কোনো সিদ্ধান্তের ফল নয়। কয়েক দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা রয়েছে। নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিও সেই দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (এমজেডিএ) সই করে। চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার তিন দেশের যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সামরিক সক্ষমতা ও বাহিনী মোতায়েনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জোটের কৌশলগত ও রাজনৈতিক-প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকটি সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হয় বলে যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঠিক কতসংখ্যক পাকিস্তানি সেনা নতুন করে মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এ নিয়ে আগে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছিল, সৌদি আরবের সীমান্ত সুরক্ষা এবং সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় পাকিস্তান ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। তবে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ওই প্রতিবেদনকে ‘অনুমানভিত্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপ্রণালি ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা নিরাপত্তাগত কারণে সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি যুদ্ধে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই জোট বাস্তবে কী মাত্রায় সামরিক সহযোগিতা করবে এবং সৌদি ভূখণ্ডে পাকিস্তানি বাহিনীর ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।