ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস বা হারিয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন ড্রোন রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) ৫ অক্টোবরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সিআরএস জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হিসাব করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, সেন্ট্রাল কমান্ড, প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং সংবাদমাধ্যমের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে চলমান অভিযান, কিছু তথ্য শ্রেণিবদ্ধ থাকা এবং কোনো কোনো ঘটনার দায় নির্ধারণে অনিশ্চয়তার কারণে সংখ্যাটি পরিবর্তিত হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কিছু উড়োজাহাজ আবারও সক্রিয় করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সিআরএস।
সিআরএসের তালিকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এমকিউ-৯ ‘রিপার’ ড্রোনে। এ ধরনের অন্তত ৪৫টি ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ ছাড়া ১২টি এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’, সাতটি কেসি-১৩৫ ‘স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার’, দুটি এ-১০ ‘থান্ডারবোল্ট টু’ এবং একটি এফ-৩৫এ ‘লাইটনিং টু’ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছে একটি ই-৩ ‘সেন্ট্রি’ নজরদারি বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ‘ট্রাইটন’ এবং তিনটি এমকিউ-১ সিরিজের ড্রোন।
হেলিকপ্টারের মধ্যে একটি এএইচ-৬৪ ‘অ্যাপাচি’, চারটি এএইচ-৬ ‘লিটল বার্ড’ এবং একটি এমএইচ-৬০ ‘সি হক’ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার তালিকায় রয়েছে।
সিআরএসের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো উড়োজাহাজগুলোর প্রতিস্থাপন ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর আগে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস জানিয়েছিল, ১ আগস্ট পর্যন্ত হারানো সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে ব্যয় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন থেকে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে—যা প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে।
বিশেষ করে ই-৩ ‘সেন্ট্রি’র মতো তুলনামূলক কমসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে কংগ্রেসে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ দ্রুত মেরামত বা প্রতিস্থাপনের মতো পর্যাপ্ত অর্থ ও উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটিও নজরদারির বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
সিআরএসের হিসাবে, মে মাসের প্রতিবেদনে যেখানে ৪২টি উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির কথা বলা হয়েছিল, হালনাগাদ প্রতিবেদনে সেই সংখ্যা বেড়ে ৮১ হয়েছে। তবে এই ব্যবধানকে সরাসরি নতুন করে ৩৯টি উড়োজাহাজ হারানোর হিসাব হিসেবে দেখছে না সংস্থাটি; নতুন তথ্য যুক্ত হওয়া এবং পূর্বের তথ্য সংশোধনের কারণেও মোট সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।