মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শক্তি কমিয়ে আনতে দেশটির অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
হামলার মূল ঘটনাবলী ও সার্বিক পরিস্থিতির বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
রাশিয়ায় ইউক্রেনের বহুমাত্রিক হামলা: প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির নিশ্চিতকরণ অনুযায়ী, সম্প্রতি রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের একটি তেল স্থাপনায় ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরের একটি লক্ষ্যবস্তু, ওরিয়োল অঞ্চলে ড্রোন উৎক্ষেপণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং ব্রায়ানস্ক অঞ্চলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে। কুইবিশেভ তেল শোধনাগারসহ সামারা এলাকার স্থাপনাগুলো ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৯১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
কিয়েভে পারমাণবিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রুশ ড্রোন: পাল্টাধাওয়া হিসেবে ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কিয়েভে 'ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ'-এর চত্বরে একটি রুশ ড্রোন আঘাত হানে। এতে সাময়িক অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হলেও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ইউক্রেনের পারমাণবিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, সেখানে থাকা কিয়েভ রিসার্চ রিঅ্যাক্টর ও এর নিরাপত্তাব্যবস্থা অক্ষত রয়েছে এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই নিরাপত্তাজনিত কারণে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই গবেষণা চুল্লিটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় ভয়াবহ সংকট: ইউক্রেন যেমন রাশিয়ার অর্থ ও জ্বালানির উৎস তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, তেমনি রাশিয়াও শীতকাল সামনে রেখে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর সর্বাত্মক হামলা চালাচ্ছে। ৩০ সেপ্টেম্বর রাশিয়া কর্তৃক পরিচালিত সমন্বিত হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।
আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি ও কৌশলগত স্থাপনা কেন্দ্রিক এসব বিধ্বংসী পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন করে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও পারমাণবিক ঝুঁকির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।