ইরাক থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী বৈশ্বিক জোটের কার্যক্রম সমাপ্ত করে নিজ সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ৩০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন বাহিনীর এই ২ বছরব্যাপী প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার ইতি ঘটে, যার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের দীর্ঘ ১২ বছরের সামরিক অভিযানের সমাপ্তি হলো। এ উপলক্ষে ইরাকে চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আলজাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সেনা প্রস্থানকে ইরানের সমর্থনপুষ্ট মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো নিজেদের ঐতিহাসিক বিজয় ও আমেরিকান প্রকল্পের শোচনীয় পরাজয় হিসেবে দাবি করলেও, বাস্তবে এটি সম্পর্কের একেবারে ইতি নয় বরং নিরাপত্তা কাঠামোর এক নতুন রূপান্তর।
সেনা প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রভাবগুলোর সারসংক্ষেপ:
আকাশ প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষার ঘাটতি: সেনা প্রত্যাহারের ফলে মার্কিন বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন এবং লজিস্টিক সহায়তা সরিয়ে নিচ্ছে। ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের (কেআরজি) জন্য এটি চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ অঞ্চলটি ইতোমধ্যে শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখোমুখি হয়েছে।
ইরাকি বাহিনীর সক্ষমতা পরীক্ষা: বাগদাদ দাবি করেছে তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চালনা এবং নজরদারির দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না আসা পর্যন্ত দেশটির আকাশসীমা পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা চ্যালেঞ্জিং।
আইএসের বর্তমান হুমকি: জাতিসংঘ ও পেন্টাগনের মতে আইএস বর্তমানে তাদের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং মাত্র কয়েকশ যোদ্ধা অবশিষ্ট আছে। তবুও গোষ্ঠীটির গোপন সেলগুলো মার্কিন প্রত্যাহারের সুযোগে এখনও রক্তক্ষয়ী হামলা চালানোর পাঁয়তারা করছে।
অস্ত্র সমর্পণ ও অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী: 'ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক'-এর মতো ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো সেনাপ্রত্যাহারকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখলেও তারা অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে সরকার তাদের অস্ত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূমিকা: মার্কিন ঘাঁটিগুলো খালি হলেও ওয়াশিংটন ও বাগদাদের সামরিক সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটছে না। ২০২৪ সালের সমঝোতা অনুযায়ী এখন থেকে দ্বিপাক্ষিক সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগ, সামরিক সহায়তা, অস্ত্র বিক্রয়, প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি বাহিনীকে পরোক্ষ সহযোগিতা বজায় রাখবে।