‘যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা’৫ আগস্টের পরের নেতৃত্ব নিয়ে উমামার অভিযোগ

ভোরের ডাক ডেস্ক

রাজনীতি

জুলাইয়ের আন্দোলনের নেতৃত্ব ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে ফের সরব হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। তাঁর অভিযোগ,

2026-10-01T18:09:57+00:00
2026-10-01T18:09:57+00:00
  শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
রাজনীতি
‘যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা’৫ আগস্টের পরের নেতৃত্ব নিয়ে উমামার অভিযোগ
ভোরের ডাক ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ পিএম 
উমামা ফাতেমা
জুলাইয়ের আন্দোলনের নেতৃত্ব ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে ফের সরব হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। তাঁর অভিযোগ, জুলাইয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দী করার চেষ্টা হয়েছে। এমনকি ৫ আগস্টের পর আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকা অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন উমামা ফাতেমা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ থাকার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসার প্রেক্ষাপটে তিনি এ বক্তব্য দেন।

উমামা ফাতেমার ভাষ্য, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে বাদ দিয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর ফলেই আন্দোলনের পর অনেকেই ‘উড়ে এসে নেতা’ হয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
একপর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘৫ আগস্টের পর যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।’

রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের ছাত্রশিবিরের সঙ্গে অতীত সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক চিঠি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তাঁর ‘সাথি’ পদ বাতিল করা হয়। এর আগে একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পদটি স্থগিত করা হয়েছিল।

শিবিরের পক্ষ থেকে আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলন, অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ, অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আম্মার। তাঁর বক্তব্য, তিনি যেসব কাজ করেননি, সেসবের প্রমাণ কীভাবে দেবেন—এমন প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

শিবিরের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আম্মার অবশ্য পুরোপুরি অস্বীকার করেননি। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে, তিনি ডানপন্থী সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং শিবিরের আবহে বেড়ে ওঠার কারণে তাঁকে শিবির হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

নিজের পোস্টে উমামা ফাতেমা অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের পর একটি ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম’ এবং ছাত্রশিবিরের হাতে আন্দোলনের রাজনৈতিক বয়ান তুলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ১৭ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা অনেকেও জুলাইয়ের পর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিচয় পেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আম্মারকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উমামা। তাঁর অভিযোগ, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ‘হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে। তিনি এটিকে ‘ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট’ বা পরিকল্পিত জনসম্মতি তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন।

তরুণদের রাজনৈতিক চিন্তা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ওপর এ ধরনের প্রচারণার প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি জনপ্রিয়তার মাধ্যমে অনেক ‘ম্যানুফ্যাকচারড ফিগার’কে সামনে আনা হচ্ছে, যা তরুণদের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে আটকে দিতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বোঝাতে মিয়ানমারের উদাহরণও টেনেছেন উমামা ফাতেমা। রোহিঙ্গা সংকট ও সহিংসতার সময় ফেসবুক কীভাবে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল, তা উল্লেখ করে বাংলাদেশেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেন তিনি।

জুলাইয়ের আন্দোলনের আগে মধ্যবিত্তের রাজনীতিবিমুখতা এবং আন্দোলনের সময় হঠাৎ রাজনৈতিক সক্রিয়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন উমামা। তাঁর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ও প্রচারণার মাধ্যমে কখনও একজনকে, আবার কখনও অন্য কাউকে ‘হিরো’ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে।

পোস্টের শেষদিকে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দুই দলের মধ্যে পার্থক্য নেই—এমন দাবি করে জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

উমামা ফাতেমার এসব মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বে কারা কী ভূমিকা রেখেছিলেন—তা নিয়েও বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।


Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: