জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতার অভিযোগের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়াচ্ছে বিএনপি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ-মিছিল ও সমাবেশের পাশাপাশি জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির নেতারা বলছেন, বিরোধীদের কর্মসূচির কারণে নয়; তাদের ভাষায় বিরোধীদের ‘অপপ্রচার’ মোকাবিলা এবং আওয়ামী লীগের তৎপরতার জবাব দিতেই মাঠে সক্রিয় হচ্ছে দলটি। তবে দলীয় সূত্রের ভাষ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি পাল্টা কর্মসূচির প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। এসব কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা ও মহানগর পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার চট্টগ্রাম বিভাগের নেতাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করে বিএনপি। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত মৃধা অংশ নেন।
কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অংশ নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিও নতুন ইস্যু হিসেবে যুক্ত হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর লিটারপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। এর প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল কর্মসূচি পালন করেছে।
এর আগে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ করে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি ছিল এসব কর্মসূচিতে।
বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য, দ্রব্যমূল্যের চাপে থাকা মানুষের ওপর জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় দেশে জ্বালানির দাম কম থাকায় পাচারের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে আসছেন বিএনপির নেতারা। এসব ঘটনাকে ঘিরে দলটির ভেতরে উদ্বেগ রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির লক্ষ্যে সন্ত্রাস ও অগ্নিসংযোগ করছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলো ‘অপপ্রচার’ চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
রিজভীর ভাষ্য, এই পরিস্থিতিতে মানুষের বিভ্রান্তি দূর করা এবং আওয়ামী লীগের তৎপরতার মোকাবিলায় বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
বিএনপির নেতারা সাম্প্রতিক কর্মসূচিকে সরকারের ওপর বিরোধী দলের চাপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখতেই এসব কর্মসূচি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জ্বালানি সংকট সরকার ও বিরোধী দল—সবার জন্যই সমস্যা। তাঁর দাবি, সরকারের ওপর চাপ তৈরির জন্য নয়, সমস্যার সমাধানে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই তাঁদের কর্মসূচি।
সব মিলিয়ে বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিএনপিও মাঠের রাজনৈতিক কার্যক্রম ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের তৎপরতার অভিযোগ—সব মিলিয়ে সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে দলগুলোর মাঠের তৎপরতা আরও দৃশ্যমান হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।