জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ব্যয় কমাতে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। আগামী তিন মাস সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও সরকারি নৈশভোজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে সরকারি প্রশাসনিক ব্যয়ে ৫ শতাংশ কাটছাঁট এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত ছাড়া নতুন ভারী ও স্থায়ী পণ্য কেনায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
জরুরি বা বৃত্তির প্রয়োজন ছাড়া আগামী তিন মাস বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ থাকবে। একান্ত প্রয়োজন হলে মন্ত্রীদের ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কাজে অনলাইন সভা ও টেলিকনফারেন্স ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশজুড়ে বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য শুধু এক পদের খাবার পরিবেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপণিবিতানগুলো রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দামেও।
নতুন দরে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৩৯০.৭৯ রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৪২৪.৯২ রুপি হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩.৪৭ রুপি বাড়ানো হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক জানিয়েছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট গাড়ির মালিকদের নির্দিষ্ট মাসিক কোটায় প্রতি লিটারে ১০০ রুপি ভর্তুকি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।