ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। তীব্র সংঘর্ষের পর পশ্চিম তাইজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকারি সেনারা।
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে। এরই মধ্যে পশ্চিম তাইজের মুকাবানা জেলার দুটি অবস্থান হুথিদের কাছ থেকে দখলে নেওয়ার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।
যে দুই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি
সরকারি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মুকাবানা জেলার আল-খাদা ফ্রন্টের নাকিল এবং জাবাল আল-কুরা এলাকায় তারা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
ইয়েমেনের রাজধানী সানা পুনর্দখলের লক্ষ্য নিয়ে সরকারি বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এর ফলে হুথিদের সঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে সরাসরি সংঘর্ষ চলছে।
সৌদি সমর্থনে সরকারি বাহিনী
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি আরব। তাইজে চলমান লড়াইয়েও রিয়াদের সামরিক সহযোগিতা রয়েছে।
অন্যদিকে হুথিরা তাইজ অঞ্চল থেকে উপকূলীয় বন্দরনগরী মোখার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের এই অগ্রযাত্রা ঠেকাতে আল-ওয়াজিয়াহ এলাকায় সৌদি বাহিনী ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
মোখা ও বাব আল-মান্দেব কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মোখা বন্দর দখল হুথিদের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপরও তাদের প্রভাব বাড়তে পারে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের এলাকাগুলো ঘিরে সৌদি আরব নৌ-অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হুথিরা বাব আল-মান্দেব দিয়ে সৌদি জাহাজ চলাচল বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যপথও নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সৌদি অবকাঠামোতেও হামলা
ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি সৌদি আরবেও হামলা চালিয়েছে হুথিরা। বিশেষ করে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক বলে জানিয়েছে রিয়াদ।
তাইজে সরকারি বাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং হুথিদের পাল্টা সামরিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত আবারও আরও বিস্তৃত ও তীব্র রূপ নিতে পারে।
সূত্র: আল-আরাবিয়া, আলজাজিরা