
রোববার লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে নিজেদের মাঠ ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোতে ২-২ গোলে ড্র করে আতলেতিকো। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে মার্ক পিউবিলের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আলভারেস। শুরু থেকে না খেললেও গ্যালারির অসন্তোষের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সতীর্থরা সমর্থকদের সামনে গেলেও আলভারেসকে দেখা যায় সরাসরি ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটতে।
কেন তাঁকে আলাদা রাখা হলো, সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আতলেতিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে। তাঁর দাবি, সিদ্ধান্তটি তাঁর ব্যক্তিগত নয়; ক্লাবের পক্ষ থেকেই আলভারেসকে সমর্থকদের সামনে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সিমিওনে বলেন, ‘ক্লাবের লোকজন আমাকে জানিয়েছিল যে, তাকে গ্যালারি ও সমর্থকদের কাছে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাকে দূরে রাখাই ছিল সিদ্ধান্ত। ড্রেসিংরুমেও তাঁকে আলাদা আসতে হবে।’
আলভারেসকে ঘিরে আতলেতিকো সমর্থকদের ক্ষোভের সূত্র অবশ্য বেশ পুরোনো। ২০২৬-২৭ মৌসুম শুরুর আগে তাঁকে নিয়ে বার্সেলোনা ও আতলেতিকোর মধ্যে আলোচনা চলার খবর প্রকাশ্যে আসে। শেষ পর্যন্ত মাদ্রিদের ক্লাবেই থেকে যান তিনি। তবে বার্সেলোনায় যাওয়ার আগ্রহের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সমর্থকদের একটি অংশের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় অনুশীলন মাঠের বাইরে। সেখানে ‘হুলিয়ান আউট’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। এমনকি আলভারেসের ১৯ নম্বর জার্সির প্রতীকী ব্যবহার করে তাঁকে ক্লাব ছাড়ার বার্তাও দেন কিছু সমর্থক।
তবে এই পরিস্থিতিতেও আলভারেসের ওপর আস্থা হারাতে রাজি নন সিমিওনে। বরং শিরোপার লড়াইয়ে তাঁকেই দলের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলোর একটি মনে করছেন আতলেতিকো কোচ। তাঁর মতে, সাফল্য পেতে হলে দলের ভেতরের ঐক্য ধরে রাখার পাশাপাশি বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডদেরও পাশে রাখতে হবে।
সিমিওনের ভাষায়, ‘আমরা যদি কোনো শিরোপা জিততে চাই, তাহলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং বিশ্বমানের ফরোয়ার্ড থাকতে হবে। আমাদের ফরোয়ার্ড দরকার। ভালো ফরোয়ার্ড দরকার। তারা আমাদের দলে আছে এবং তাদের যত্ন নিতে হবে।’
গত মৌসুমে আতলেতিকোর হয়ে দারুণ কার্যকর ছিলেন আলভারেস। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে ২০ গোল করার পাশাপাশি ৯টি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। লা লিগার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগেও গোলের দেখা পেয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।
কিন্তু নতুন মৌসুমে সেই ধারাবাহিকতার ছাপ এখনো দেখা যায়নি। ১৯ আগস্ট মালাগার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে তাঁকে মাঠে নামাননি সিমিওনে। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে পরের ম্যাচে বদলি হিসেবে সুযোগ পেলেও দলকে জেতাতে পারেননি।
দুই ম্যাচে এক জয় ও এক ড্রয়ে আতলেতিকোর সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। শুরুতেই পয়েন্ট তালিকার ওপরের দিকে থাকলেও মাঠের ফলাফলের পাশাপাশি আলভারেসকে ঘিরে তৈরি হওয়া অসন্তোষও এখন সামলাতে হচ্ছে ক্লাবটিকে।
শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকতে হলে তাই আতলেতিকোর সামনে লড়াইটা শুধু প্রতিপক্ষের সঙ্গে নয়। দলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ডকে ঘিরে সমর্থকদের ক্ষোভ প্রশমিত করে ড্রেসিংরুমে ঐক্য ধরে রাখাটাও এখন সিমিওনের জন্য বড় পরীক্ষা।