আপত্তিকর মেসেঞ্জার কথোপকথনের অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া নেতা হলেন সাজিদ আহমেদ মোল্লা। তিনি শাবিপ্রবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স (সিইপি) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাজিদ আহমেদ মোল্লাকে সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালাইয়ান্স অব বাংলাদেশ (পুসাব)’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে সাজিদ আহমেদ মোল্লার মেসেঞ্জারের কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। স্ক্রিনশটটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটি তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়।
এ বিষয়ে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক রাশিদ আবরার বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি, মেসেঞ্জারের চ্যাটটি তার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে হয়েছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি কেন্দ্রে জানানো হয়। কেন্দ্র বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সাংগঠনিক নীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থি মনে করায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন অব্যাহতি পাওয়া নেতা সাজিদ আহমেদ মোল্লা। তিনি বলেন, যে চ্যাটটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি প্রায় এক বছর আগে আমার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথন। এটি কোনো সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
তিনি আরও বলেন, সমবয়সী হওয়ায় ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় অনেক সময় মজা করে বিভিন্ন ধরনের কথা হয়। একটি ব্যক্তিগত মেসেঞ্জার চ্যাটের স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
চ্যাটকাণ্ডকে ঘিরে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা চললেও এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।