৫ আগস্ট ঢাকায় ১০ দলের মহাসমাবেশ, আসছে আরো কঠোর কর্মসূচী

সাইদুল ইসলাম

রাজনীতি

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা অবনতিসহ নানা সংকটে ছিল দেশ। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও বাংলাদেশ

2026-08-01T13:56:37+00:00
2026-08-01T14:26:28+00:00
  রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
রাজনীতি
নানা ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতির মাঠ
৫ আগস্ট ঢাকায় ১০ দলের মহাসমাবেশ, আসছে আরো কঠোর কর্মসূচী
সাইদুল ইসলাম
শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম  আপডেট: ০১.০৮.২০২৬ ২:২৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা অবনতিসহ নানা সংকটে ছিল দেশ। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কিছু দলের মতবিরোধসহ তখন নানা ইস্যুতে দেশে অস্থিতিশীল বিরাজ করছিল। তবে জাতীয় নির্বাচনের পর এ সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে শুরু করলেও সম্প্রতি জুলাই পদযাত্রা ২০২৬ কর্মসূচিতে এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের ওপর হামলা ও প্রায় দেশে বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-বিএনপির সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতির মাঠ। অন্যদিকে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফের রাজপথে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট। এ দাবিতে ৫ আগস্ট রাজধানীর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট। সমাবেশে ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটানোর টার্গেট রয়েছে। এতেও দাবি না মানলে পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচীর আভাস দিয়েছে দলগুলো। ফলে দেশের রাজনীতি আবারও এক অনিশ্চয়তার দিকে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন দেশের সচেতন মহল।

জানা গেছে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। এতে দলটির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। হামলায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় তাদের নেতাকর্মীদের কারও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়ে ছিলেন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া, এনসিপির কর্মসূচী পালনকালে কুড়িগ্রামসহ কয়েকটি স্থানে হামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচী পালন করছে এনসিপি। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের  নেতাকর্মীদের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের মতবিরোধসহ সংঘর্ষের খবর আসছে প্রায়ই। তাছাড়া, রাজনৈতিক কর্মসূচীগুলোতে সরকারি ও বিরোধীদলের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় কথা বলছেন। বিরোধীদলের কেউ বলছেন বিএনপি সরকারকে আর ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হবে না। আবার সরকারি দলের কেউ বলছেন দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে কেউ ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। এসব ঘটনায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতির মাঠ। এভাবে চলতে থাকলে দুই পক্ষের জন্যই অমঙ্গল হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা অবনতিসহ নানা সংকট সৃষ্টি হলেও তা এখনো কাটিয়ে উঠেনি। এই সময় সরকার ও বিরোধীদলগুলোকে দেশের স্বার্থে সংঘর্ষ এড়িয়ে মিলেমিশে সামনের দিকে এগুতে হবে। না হয় রাজনীতির মাঠ এভাবে উত্তপ্ত হতে থাকলে দেশ ও সবার জন্যই ক্ষতিকর হবে। 

এদিকে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে মতবিরোধ চলছে গত ৫ মাস ধরে। গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কারের দাবি আদায়ে নানা ভাবে আন্দোলন চালাচ্ছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীতে মহাসমাবেশর ঘোষণা করেছে ১০ দল। এ মহাসমাবেশে ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটানোর টার্গেট নিয়ে কাজ শুরু করেছে জামায়াত-এনসিপিসহ দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। ১০ দলের একটি সূত্রে জানিয়েছে, সরকারকে বারবার এ দাবি মেনে নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু সরকার এতে কর্নপাত না করায় মহাসমাবেশের পর আরো কঠোর কর্মসূচী দেয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে বিক্ষোভের পাশাপাশি গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আসছে। তারপরেও দাবি না মানলে হরতাল অবরোধসহ নানা কর্মসূচী পালনের চিন্তা রয়েছে। ৫ আগস্টের মহাসমাবেশ থেকে পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা হতে পারে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের দায়িত্বশীল এক নেতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতোই ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে। সংস্কারকে ধামাচাপা দিয়ে সরকার সংবিধানে শুধুমাত্র সংশোধনী আনতে চায়। রাজপথের আন্দোলন ছাড়া ১০ দলের আর কোন বিকল্প নেই। ফলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যেমেই এ দাবি আদায় করা হবে। ১০ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারি দল গণভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আমরা এটা আশা করিনি। এটা দুঃখজনক ঘটনা। তারা সংবিধান সংশোধন করতে চায়। কিন্তু তা হবে না। সংস্কারই করতে হবে। সংস্কার করতে হলে গণভোট মানতে হবে। তা নাহলে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া বিরোধী দলের আর কোনো পথ নেই। 



Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: