পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো, পুরনো বাসের পরিবেশসম্মত স্ক্র্যাপিং নীতি প্রণয়ন, রাজধানীর বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস এবং মেট্রোরেল-মনোরেল-বাসের সমন্বয়ে একীভূত গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শুধু যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নেই নয়, গণপরিবহন ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য এমন একটি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা হবে নিরাপদ, সময়োপযোগী, পরিবেশবান্ধব এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে এর ওপর আরোপিত প্রায় ৬২ শতাংশ কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। এতে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্যও ইলেকট্রিক যানবাহন কেনা সহজ হবে। পাশাপাশি সারাদেশে প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং বায়ু ও শব্দদূষণ কমে নগরবাসী আরও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
পুরনো বাস ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২৫ বছর পূর্ণ এবং চলাচলের অনুপযোগী বাস ভবিষ্যতে আর ডাম্পিং করা হবে না। পরিবেশসম্মত স্ক্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে লোহা, ইস্পাতসহ পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ উদ্ধার করে শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা হবে।
রাজধানীর যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার অভ্যন্তরের বাসস্ট্যান্ডগুলো মূলত সিটি বাস পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে। আর আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাসগুলোকে রাজধানীর চারপাশে গড়ে তোলা আধুনিক টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে। এতে রাজধানীর ভেতরে ভারী বাসের চলাচল কমবে এবং যানজটও হ্রাস পাবে।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো মেট্রোরেল, মনোরেল, ইলেকট্রিক বাস ও আধুনিক সিটি বাসকে একই নেটওয়ার্কের আওতায় এনে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এতে যাত্রীরা সহজেই এক পরিবহন থেকে অন্য পরিবহনে যেতে পারবেন, সময় ও ব্যয় কমবে এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহারও হ্রাস পাবে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও স্মার্ট নগরীতে পরিণত করতে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। সরকারের পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও দক্ষ গণপরিবহন ব্যবস্থার দেশে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।