একসঙ্গে থেকেও বাড়ছে মানসিক দূরত্ব? সম্পর্ক বাঁচাবেন যেভাবে

জীবনযাপন ডেস্ক

জীবনযাপন

একই ছাদের নিচে বসবাস, প্রতিদিন দেখা-সাক্ষাৎ, সংসারের সব দায়িত্ব ভাগাভাগি—তবুও অনেক দম্পতির সম্পর্কে তৈরি হচ্ছে অদৃশ্য মানসিক দূরত্ব। বাইরে থেকে

2026-07-28T16:41:55+00:00
2026-07-28T16:41:55+00:00
  বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
জীবনযাপন
একসঙ্গে থেকেও বাড়ছে মানসিক দূরত্ব? সম্পর্ক বাঁচাবেন যেভাবে
জীবনযাপন ডেস্ক
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪১ পিএম 
প্রতীকী ছবি
একই ছাদের নিচে বসবাস, প্রতিদিন দেখা-সাক্ষাৎ, সংসারের সব দায়িত্ব ভাগাভাগি—তবুও অনেক দম্পতির সম্পর্কে তৈরি হচ্ছে অদৃশ্য মানসিক দূরত্ব। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে অনেকেই একাকীত্ব অনুভব করেন। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ইমোশনাল লোনলিনেস’, যেখানে সঙ্গীর উপস্থিতি থাকলেও মানসিক সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত জীবনযাপন, প্রযুক্তিনির্ভরতা এবং আন্তরিক যোগাযোগের ঘাটতি এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কী কারণে দম্পতিদের মধ্যে এই দূরত্ব তৈরি হয় এবং তা কমানোর উপায় কী।

যোগাযোগ কমে যাওয়া

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত কথোপকথনের বিকল্প নেই। কিন্তু কাজের চাপ, সংসার, সন্তান ও নানান দায়িত্বের কারণে অনেক দম্পতির কথাবার্তা শুধু প্রয়োজনীয় বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ধীরে ধীরে আবেগের বন্ধন দুর্বল হতে শুরু করে।

অনুভূতির মূল্য না দেওয়া

একজন যখন নিজের মনের কথা বলতে চান, তখন অন্যজন যদি মনোযোগ দিয়ে না শোনেন বা গুরুত্ব না দেন, তাহলে ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশের আগ্রহ কমে যায়। এতে অভিমান ও মানসিক দূরত্ব বাড়তে থাকে।

প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার

মোবাইল ফোন, সামাজিক মাধ্যম বা ল্যাপটপে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে একসঙ্গে থেকেও অনেকের মধ্যে যোগাযোগ কমে যাচ্ছে। একই ঘরে বসে থেকেও দু'জন ভিন্ন ভিন্ন স্ক্রিনে ব্যস্ত থাকলে সম্পর্কের আন্তরিকতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সব সময় ঝগড়া না হওয়াও ইতিবাচক নয়

অনেকে মনে করেন ঝগড়া না হওয়া মানেই সুখী সম্পর্ক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের কষ্ট বা মতামত চেপে রাখাও সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে সমস্যাগুলো অমীমাংসিত থেকে যায় এবং দূরত্ব আরও বাড়ে।

ভালোবাসার প্রকাশ কমে যাওয়া

ধন্যবাদ জানানো, প্রশংসা করা কিংবা ভালোবাসা প্রকাশের মতো ছোট ছোট বিষয় সম্পর্ককে প্রাণবন্ত রাখে। এসব অভ্যাস কমে গেলে সম্পর্কেও একঘেয়েমি তৈরি হতে পারে।

একসঙ্গে মানসম্মত সময়ের অভাব

একসঙ্গে হাঁটা, বেড়াতে যাওয়া, পুরোনো স্মৃতি নিয়ে গল্প করা বা নতুন কোনো অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ কমে গেলে মানসিক সংযোগও দুর্বল হতে পারে।

সম্পর্কে শুধু দায়িত্বের প্রাধান্য

যখন ভালোবাসা ও আন্তরিকতার চেয়ে দায়িত্ব পালনই প্রধান হয়ে ওঠে, তখন একই ঘরে থেকেও দু'জন মানুষ আলাদা জগতের বাসিন্দা হয়ে পড়েন।

মানসিক দূরত্ব কমাতে যা করতে পারেন

# প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট নিরবচ্ছিন্নভাবে একে অপরের সঙ্গে কথা বলুন।
# অভিযোগের পরিবর্তে নিজের অনুভূতি শান্তভাবে প্রকাশ করুন।
# সঙ্গীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন।
# নির্দিষ্ট সময় মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন।
# ছোট ছোট বিষয়েও কৃতজ্ঞতা, প্রশংসা ও ভালোবাসা প্রকাশের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
# একসঙ্গে নতুন কোনো শখ বা কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।
# দীর্ঘদিন সমস্যা চলতে থাকলে প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা দাম্পত্য পরামর্শকের সহায়তা নিন।


  বিষয়:   দাম্পত্য সম্পর্ক  মানসিক দূরত্ব  ইমোশনাল লোনলিনেস  স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক  সম্পর্কের সমস্যা 


Loading...
Loading...

জীবনযাপন- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: