২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে রিট

ভোরের ডাক ডেস্ক

আইন-আদালত

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত গবেষণার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট

2026-07-27T16:46:59+00:00
2026-07-27T16:46:59+00:00
  মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬,
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
আইন-আদালত
২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে রিট
ভোরের ডাক ডেস্ক
সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত গবেষণার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। গবেষণায় পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করেন।

রিটে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিবাদী করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে এবং এতে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, টুথপেস্টে কোনোভাবেই মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা উচিত নয়।

গবেষণাটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষায় দেখা যায়, দেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভারতের পাঁচটির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ছয়টি শিশুদের টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

ইএসডিওর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাসোসিয়েট ড. ফয়জুন নাহার জানান, খুচরা দোকান, সুপারশপ ও পাইকারি বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে পরীক্ষা করা হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা করা নমুনার ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, আর আটটি নমুনায় এ ধরনের কণা পাওয়া যায়নি।

গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেল-এ, যেখানে প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পরিচিত ব্র্যান্ডের একাধিক টুথপেস্টেও ভিন্নমাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার, জেনফ্রেশ, সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল, কোলগেট অ্যাকটিভ সল্টসহ মোট আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।


  বিষয়:   মাইক্রোপ্লাস্টিক  টুথপেস্ট  হাইকোর্ট  ইএসডিও  বিএসটিআই  ভোক্তা অধিকার 


Loading...
Loading...

আইন-আদালত- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: