নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওর থেকে পুলিশের জব্দ করা নিষিদ্ধ খনা জাল ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১,১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি খনা জাল উদ্ধার করেছে এবং দুই জেলেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের ফসলহানির কারণে হাওরাঞ্চলের মানুষ আগে থেকেই অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরায় নানা বিধিনিষেধ এবং বিপুলসংখ্যক জেলের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি যেন ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান জানান, আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই রাসেল পারভেজ বাদী হয়ে সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে মোহনগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার পর ৪ নম্বর মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের কুড়েরপাড় গ্রামের জাকির হোসেন (২২) ও মামুন মিয়া (২৪) নামে দুই জেলেকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ডিঙ্গাপোতা হাওরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের চারটি নিষিদ্ধ খনা জাল এবং ইঞ্জিনচালিত দুটি নৌকা জব্দ করেন। পরে জব্দ করা জাল ও নৌকাগুলো তদন্ত কেন্দ্রে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরদিন রবিবার দুপুরে হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রামের কয়েকশ জেলে সংঘবদ্ধভাবে তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে জব্দ করা জাল ও নৌকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। এরপর সোমবার হাওরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি খনা জাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ সময় শেষ হওয়ার পরও হাওরে মাছ ধরা নিয়ে হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রামের জেলেদের সঙ্গে প্রশাসনের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন চলছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাওরের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিস্তার নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, একসঙ্গে সহস্রাধিক জেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ায় হাওরপাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি জেলেদের জীবিকা ও মানবিক বাস্তবতাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে মোট জনবল মাত্র ছয়জন। ঘটনার সময় তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ অন্য একটি দায়িত্বে বাইরে ছিলেন। স্বল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্য তখন বাধা দিলে তদন্ত কেন্দ্রের অবকাঠামোর ক্ষতি হতে পারত। এমনকি পুলিশ সদস্যরা আহত বা নিহত হওয়ারও আশঙ্কা ছিল। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।