চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে অভিযান চালিয়ে আত্মসাৎ হওয়া ১২ হাজার ২৩৯ কেজি সাইজিং লাইনার পেপার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্ণফুলী থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তাকৃতরা হলেন, পাবনার আমিনপুর থানার কাশিনাথপুর এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঢাকার মুগদা থানার দক্ষিণ কমলাপুর এলাকায় বসবাসকারী মো. নয়ন (২৮), কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা মাস্টারহাট এলাকার মো. মহিউদ্দিন (৪৫), কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যা এলাকার মো. ইসমাইল ওরফে মুসলমান (৫৬), রাউজানের উত্তর গুজারা এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে নগরের পাঁচলাইশ থানার সিটি ভিউ আবাসিক এলাকায় বসবাসকারী মো. জানে আলম (৪৭), কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসিন্দা ও বর্তমানে বায়েজিদ বোস্তামী থানার বাংলা বাজার এলাকার তাজুর কলোনিতে বসবাসকারী মো. কামাল হোসেন (৩৫) এবং চন্দনাইশ উপজেলার পূর্ব দোহাজারী এলাকার বাসিন্দা ও বর্তমানে বায়েজিদ বোস্তামী থানার পশ্চিম শহীদনগর এলাকায় বসবাসকারী মো. রফিক উদ্দিন (৪০)।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মহিউদ্দিন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে কর্ণফুলীর ইছানগরের একটি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের জন্য ২১ রোল, মোট ১২ হাজার ২৩৯ কেজি সাইজিং লাইনার পেপার একটি কাভার্ডভ্যানে পাঠানো হয়। গত ৯ জুলাই দুপুরে কর্ণফুলী টানেলের টোল প্লাজার সামনে পৌঁছানোর পর চালক ও তার সহযোগীরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে মালামাল আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনায় ১২ জুলাই কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে বন্দর থানার নিমতলা বিশ্বরোড এলাকা থেকে কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করে। পরে ঢাকার মতিঝিলের দক্ষিণ কমলাপুর এলাকা থেকে গাড়ির হেলপার নয়নকে গ্রেফতার করা হয়।
নয়নের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কর্ণফুলীর মইজ্জারটেক এলাকা থেকে মহিউদ্দিন ও ইসমাইলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকার একটি প্যাকেজিং কারখানায় অভিযান চালিয়ে আত্মসাৎ হওয়া ২১ রোল সাইজিং লাইনার পেপার উদ্ধার করা হয়। এ সময় জানে আলম, কামাল হোসেন ও রফিক উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।