মালদ্বীপের স্বাস্থ্য, পরিবার ও কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী গিলা আলীর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ.জেড.এম. জাহিদ হোসেন।
রোববার (১২ জুলাই) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ওআইসি নারী বিষয়ক ৯ম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের ফাঁকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, নারী ক্ষমতায়ন, শিশু উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুইদেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এবং সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে কার্যকর সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদারের ওপর উভয় পক্ষই গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ.জেড.এম. জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, বাংলাদেশ সরকার মালদ্বীপের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।তিনি সামাজিক উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, জনস্বাস্থ্য এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য ভাগাভাগি করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্ক শুধুমাত্র সরকার-সরকার পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জনগণের মধ্যে বিদ্যমান গভীর বন্ধুত্ব, আস্থা ও সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। উভয় দেশই শান্তি, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং মানবকল্যাণের অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী।
মালদ্বীপের মন্ত্রী গিলা আলী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা খাতের অগ্রগতি এবং নারী উন্নয়নে অর্জিত সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মালদ্বীপের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবী ও প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানেরও প্রশংসা করেন এবং স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপ, অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, কারিগরি সহযোগিতা এবং যৌথ প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করার বিষয়ে একমত হন।
দুই দেশের মন্ত্রীবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক রূপ লাভ করবে এবং স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশু উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
এই বৈঠক বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং উভয় দেশের জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।