অসংখ্য রেকর্ড, অগণিত শিরোপা আর একের পর এক অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ফুটবলের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখেছেন লিওনেল মেসি। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করা এই আর্জেন্টাইন তারকাকে অনেকেই শুধু বর্তমান সময়ের নয়, সর্বকালের সেরাও মনে করেন। তাই ‘মেসি একজন কিংবদন্তি, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, ইতিহাসের সেরা’—এমন মন্তব্য নতুন করে উসকে দিয়েছে ফুটবল বিশ্বের চিরন্তন ‘গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’ বিতর্ককে।
আবারও আর্জেন্টিনাকে পথ দেখালেন লিওনেল মেসি। গোল করলেন, করালেন, আঁচড় কাটলেন ইতিহাসের পাতায়। ৩৯ বছর বয়সের ভার নিয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপেও প্রতিনিয়ত মুগ্ধতা ছড়িয়ে চলেছেন তিনি। হুলিয়ান আলভারেস তাই আরও অনেকের মতো, মহাতারকার প্রশংসা করতে গিয়ে শব্দ খুঁজে পেলেন না।
আটলান্টায় শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে, মিশরকে ৩-২ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়া দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ ৭৯তম মিনিটে এনে দেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, দারুণ ক্রস বাড়িয়ে এই গোলের নেপথ্যের নায়ক মেসি।
চার মিনিট পর সমতার স্বস্তি ফেরানো গোলটি করেন তিনি নিজেই, বাম পায়ের দৃষ্টিনন্দন শটে। এই গোলেই প্রায় একশ বছরের পুরনো রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি। দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে আট গোল করলেন এই জাদুকর। ১৯৩০ সালে উদ্বোধনী আসরে এই কীর্তি গড়েছিলেন গিয়ের্মো স্তাবিলে।
এ মুহূর্তে চলতি আসরে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে সবার আগে মেসি। সাতটি করে গোল নিয়ে তার পিছে ছুটছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ও নরওয়ের আর্লিং হলান্ড।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নকআউট পর্বে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার কীর্তিও গড়লেন মেসি। বিশ্ব মঞ্চে এই নিয়ে টানা ৯ ম্যাচে গোল করলেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন দ’র জয়ী। টানা ছয় ম্যাচের বেশি গোল করার কীর্তি নেই আর কারো।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসির মোট গোল হলো ২১টি। সামনের পথচলায় তিনি কোথায় গিয়ে থামবেন, কে জানে। আলভারেস তাই এতকিছু না ভেবে, মেসির সাথে থাকা সময়টুকু উপভোগ করছেন।
“এই বিশ্বকাপে তিনি যা করছেন, তা ব্যাখ্যা করার শব্দ নেই আমার কাছে। এটা মুগ্ধকর। আমরা তাকে সমর্থন, সহযোগিতা করার চেষ্টা করি, তার সাথে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগের চেষ্টা করি।
“আমাদের জন্য তিনি যা করছেন এবং যেভাবে আমাদের সাথে থাকছেন, আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি একজন কিংবদন্তি। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, ইতিহাসের সেরা।”