যে নিয়মে বাতিল হলো মিশরের গোল, আইনে কী বলা আছে?

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মিশরের জালে বল জড়ালেও শেষ পর্যন্ত গোলের আনন্দ মেলেনি। ভিএআরের সহায়তায় রেফারি সেই গোল বাতিল করলে শুরু

2026-07-08T10:23:49+00:00
2026-07-08T10:23:49+00:00
  বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬,
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
খেলা
যে নিয়মে বাতিল হলো মিশরের গোল, আইনে কী বলা আছে?
ক্রীড়া ডেস্ক
বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৩ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মিশরের জালে বল জড়ালেও শেষ পর্যন্ত গোলের আনন্দ মেলেনি। ভিএআরের সহায়তায় রেফারি সেই গোল বাতিল করলে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। কেন গোলটি স্বীকৃতি পেল না, সিদ্ধান্তটি কতটা সঠিক ছিল এবং ফুটবলের আইন এ বিষয়ে ঠিক কী বলে—চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের নেপথ্যের নিয়ম।

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের ৩-২ গোলের নাটকীয় পরাজয়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল মোস্তাফা জিকোর বাতিল হওয়া গোল। ম্যাচে তখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর। সালাহর পাস থেকে জিকো সহজেই বল জালে জড়ান এবং উচ্ছ্বাসে জার্সি খুলে উদযাপনও করেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পর ভিএআর-এর হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।

রেফারির ব্যাখ্যা ছিল, গোল হওয়ার আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিশরের একজন খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার ফুটবলারের ওপর ফাউল করেছিলেন। সেই কারণেই ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর)পরামর্শে গোলটি বাতিল করা হয়।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। ম্যাচের ধারাভাষ্যকারদের অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন, গোলের আগের সেই ঘটনাটি ভিএআরের পর্যালোচনার আওতায় পড়ে না। ফলে সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

কিন্তু ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আন্তর্জাতিক ফুটবল এসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)-এর ল'স অব দ্য গেম অনুযায়ী, গোল হওয়ার আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় যদি ফাউল, হ্যান্ডবল বা অফসাইডের মতো কোনো আক্রমণকারী দলের অপরাধ ঘটে থাকে, তাহলে ভিএআর সেই ঘটনা পর্যালোচনা করে রেফারিকে সিদ্ধান্ত বদলানোর পরামর্শ দিতে পারে।

অর্থাৎ, যদি ভিএআর মনে করে যে গোলের আগে আক্রমণ শুরুর সময় ফাউল হয়েছিল, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী সেই গোল বাতিল করার সুযোগ রয়েছে। ফলে সিদ্ধান্তটি বিতর্কিত হলেও, তা ফুটবলের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

কী এই এপিপি : অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ফাউল করার বেশ কয়েক সেকেন্ড পর গোলটি হয়েছে, তাহলে কেন সেটি বাতিল হলো? 

সহজ ভাষায় কোনো দল আক্রমণ শুরু করে গোল করা, পেনাল্টি পাওয়া বা কোনো বড় ঘটনা ঘটানোর আগ পর্যন্ত যে সময়টুকু বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে, তাকেই এপিপি বলা হয়।

আক্রমণের শুরুর দিকে যদি কোনো ফাউল বা নিয়মভঙ্গ হয়, তবে গোল হওয়ার আগ পর্যন্ত যত সময়ই পার হোক না কেন—ভিএআর-এর সাহায্যে রেফারি একদম আক্রমণের শুরুতে ফিরে গিয়ে ফাউলটি ধরতে পারেন।

নিয়ম অনুযায়ী, একটি আক্রমণাত্মক ফেজ বা এপিপি তখনই শেষ হবে যখন:

১. আক্রমণকারী দলের সামনে এগিয়ে যাওয়ার গতি থেমে যাবে।

২. রক্ষণভাগ (ডিফেন্ডিং দল) বলের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে (যেমন: কোনো চাপ ছাড়া বল ক্লিয়ার করা বা সতীর্থকে পাস দেওয়া)।

যেহেতু লিসান্দ্রোকে ফাউল করার পর আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ পায়নি এবং মিশর সরাসরি সেই আক্রমণ থেকেই গোলটি করেছে, তাই গোলটি সম্পূর্ণ অবৈধ ছিল। এর আগে দক্ষিন আমেরিকা বাছাইপর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নিকোলাস গঞ্জালেসের একটি ফাউলের কারণে লিওনেল মেসির গোলও ঠিক এই নিয়মে বাতিল করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, পরে একই ম্যাচে আবারও গোল করেন মোস্তাফা জিকো। সেই গোলে মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।


  বিষয়:   ভিএআর  আর্জেন্টিনা  বিশ্বকাপ 


Loading...
Loading...

খেলা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: