বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রথম বারের মত বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’। দিবসটিকে সফলভাবে উদযাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে (বিআরডিবি)। মূল প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আজ সোমবার ৬ জুলাই সারাদেশের সকল উপজেলার বিআরডিবি কার্যালয়ে একযোগে দিবসটি উদযাপন করা হবে।
জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে গতকাল রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালনের জন্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণায় এবং বিআরডিবির যৌথভাবে সারা দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সভা, সেমিনার, উদ্যোক্ত ঋণ বিতরণ, র্যালী, গাছের চারা বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। বিআরডিবি তার আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচীতে দিবসটি উপলক্ষ্যে সেবা সপ্তাহ পালন করছে।
আজ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮ তম অধিবেশনের প্লেনারিতে সর্বসম্মতিক্রমে ৬ জুলাইকে ‘বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে ঘোষনা করে রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়। তখন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রস্তাবিত রেজ্যুলেশনটি ভারত, পেরু, ফিলিপিন, নেপাল থাইল্যান্ডের সমন্বয়ে কোর কমিটিতে দিবসটির পক্ষে মত দেয়। এর ধারাবাহিকতায় এবছরের ১৯ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক চিঠিতে ৬ জুলাইকে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ঘোষনা করে ’খ’ শ্রেণিভুক্ত করে দিবস পালনের অনুমোদন দেয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠির প্রেক্ষিতে ২০ এপ্রিল এলজিআরডি থেকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) মহাপরিচালককে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ উদযাপনের কর্মসূচি প্রস্তুত করে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রথমবারের মত দিবসটি পালনের জন্য কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ইচ্ছা প্রকাশ করলেও দিবসের গুরুত্ব এবং বিআরডিবির ঐতিহ্য বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত বিআরডিবিকেই দিবসটি পালনের দায়িত্ব দেয়া হয়।
বিআরডিবির মহাপরিচালক জনাব একেএম তারেক ভোরের ডাককে বলেন, প্রথমবারের মত সোমবার সারাদেশের সকল উপজেলায় ‘বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস’ পালন করা হবে। প্রথমবারের মত বাংলাদেশে এই দিবস পালন করতে মুখিয়ে আছে বিআরডিবির কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ এর সুবিধাভোগী কোটি মানুষ। দিবসটি সফলভাবে পালন করতে ইতোমধ্যে সারাদেশে আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন।
তিনি বলেন, বিআরডিবি দেশের কোটি কোটি মানুষকে নিরবে সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। সরকার ‘খ’ শ্রেনীভুক্ত দিবস ঘোষনা করায় পল্লী উন্নয়নে নিরব বিপ্লব ঘটছে। বিআরডিবি প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও উদ্যোক্তাদের লোন দেয়, মনিটরিং করে, তারে লাইভলিহুড নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করাই আমাদের টার্গেট।
সোনারগা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ অলিউল্লাহ খান ভোরের ডাককে বলেন, জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের মত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিবস পালনের দায়িত্ব বিআরডিবিকে দেয়ায় আমরা আনন্দিত। এতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়বে। দিবস উপলক্ষ্যে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সেবা গ্রহীতারদের মধ্যে ব্যাপকভাবে গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।