সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বরাবরই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। ধর্মের নামে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদকে বাংলাদেশ সমর্থন করে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ১০ম বার্ষিকী উপলক্ষে নিহতদের স্মরণে ঢাকায় ইতালি দূতাবাস আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, হলি আর্টিজান হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়। ঘটনার এক দশক পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকা আজও জাতিকে তাড়িয়ে বেড়ায়। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের নৃশংস হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, হলি আর্টিজান হামলার পর জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে সরকারের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
স্মরণসভায় ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নিহতদের স্বজন এবং হামলা থেকে বেঁচে ফেরা জিম্মিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় তারা ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালির, ৭ জন জাপানের, একজন ভারতের এবং তিনজন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। এছাড়া একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকও এ হামলায় প্রাণ হারান। ওই হামলা দেশ-বিদেশে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে।