মাদারীপুরের শিবচরে তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। একইসঙ্গে বিদ্যুতের লোড ওঠানামার কারণে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ও অগ্নিকাণ্ডের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দিনে ও রাতে কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানপাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে।
বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা যেমন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, অপারেশন থিয়েটার, ফটোকপি, কম্পিউটার, মোবাইল সার্ভিসিং, ফ্রিজ ও কোল্ড ড্রিংকসের দোকান ও উৎপাদনমুখী কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।
শিবচর উপজেলা কে ২০২২ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ১০০ ভাগ বিদ্যুৎ আয়িত উপজেলা হিসেবে ঘোষনা করেছেন ১৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা সকল বাড়ীতে বিদ্যুৎ পৌছেদিয়া।
উপজেলায় ২৮শত ৪৫ কিলোমিটারে নির্মিতব্য লাইনে ১ লাখ ৩৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে যাহা ৫ টি সাব স্টেশনে ১৪০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেবা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছেন।
অফিস সূত্রে জানা যায়, গ্রাহকদের নিকট প্রায় ১০ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে, তার মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ১৫ লাখ, আর্মিক্যাম্প ১০ লাখ, বিভিন্ন ইটভাটা স্ব-মিল, মসজীদ মাদ্রাসায় অনেক বকেয়া বিল রয়েছে।
শিবচর বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে ব্যবসা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি।
আরেক ব্যবসায়ী জানান, হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং আবার আসার সময় ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এদিকে প্রচণ্ড গরমে লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেককে ঘর থেকে বের হয়ে খোলা আকাশের নিচে সময় কাটাতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহ, মোবাইল চার্জিংসহ দৈনন্দিন কাজেও বিঘ্ন ঘটছে।
এছাড়া বিদ্যুতের লোড ওঠানামার কারণে অগ্নিকাণ্ডের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ এর ডিজিএম অভিলাশ চন্দ্র পাল বলেন উপজেলায় প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট।
চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করা হচ্ছে। লোডশেডিং জাতীয় সমস্যা এটা নিয়ে সংসদেও আলোচনা হয়, তাই উৎপাদন বাড়লে লোডশেডিং কমে যাবে আমরা আশাবাদী খুব শিঘ্রই এর সমস্যা সমাধান হবে।
ব্যবসায়ীদের দাবি অতিরিক্ত গরমে বিদ্যুৎ বিহীন দোকানে কাস্টমার আসছে না বিধায় ক্ষতির মুখে পরছি। উপাদানমুখী ব্যবসায়ীরা বলেন বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিক বেকার সময় কাটাচ্ছে চাহিদা অনুযায়ী মাল তৈরি হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে শিবচরবাসীকে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। অন্যথায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-এর দাবিতে যৌক্তিক আন্দোলন করবে এলাকাবাসী।