স্পেনের সাবেক অধিনায়ক সিজার আজপিলিকুয়েতার মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু লামিনে ইয়ামালের ওপর নির্ভর করলেই হবে না। তার বিশ্বাস, স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ভারসাম্যপূর্ণ দল, যেখানে মিকেল ওয়ারসাবালের মতো ফুটবলাররা নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
আজপিলিকুয়েতা বলেন, বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে একাই দলকে শিরোপা এনে দেওয়া সম্ভব নয়। অতিরিক্ত নকআউট ম্যাচ, সম্ভাব্য অতিরিক্ত সময়, দীর্ঘ ভ্রমণ এবং গরম আবহাওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরো স্কোয়াডের সম্মিলিত অবদানই হবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ২৩ জন মাঠের খেলোয়াড়কেই ব্যবহার করেছিলেন। এবারও একই ধরনের দলগত অবদান প্রয়োজন হবে বলে মনে করেন তিনি।
আজপিলিকুয়েতার মতে, এর অন্যতম বড় উদাহরণ মিকেল ওয়ারসাবাল। ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালে বদলি হিসেবে নেমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেছিলেন তিনি। পুরো আসরে সেটিই ছিল তার একমাত্র গোল। এরপর থেকে জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিকভাবে গোল করে যাচ্ছেন এই ফরোয়ার্ড।
তার ভাষায়, ‘ওয়ারসাবালকে হয়তো কিলিয়ান এমবাপ্পে বা হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার বলা হয় না। কিন্তু বড় ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা তার রয়েছে। স্পেনে আমরা তার মূল্য বুঝি।’
আজপিলিকুয়েতা আরও বলেন, আগে উইংয়ে খেললেও গত কয়েক বছরে ওয়ারসাবাল নিজেকে পূর্ণাঙ্গ স্ট্রাইকার হিসেবে গড়ে তুলেছেন। আবার প্রয়োজন হলে ডান ও বাম—দুই দিকেই সরে গিয়ে জায়গা তৈরি করতে পারেন। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন ইয়ামালকে আটকাতে ব্যস্ত থাকে, তখন সেই ফাঁকা জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার করেন তিনি।
সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই দুই গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দারুণ আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন ওয়ারসাবাল। তবে শুধু তাকেই নয়, ফেরান তোরেস ও বোরহা ইগলেসিয়াসকেও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখছেন স্পেনের সাবেক এই অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ‘বোরহা ইগলেসিয়াস এখনো বিশ্বকাপে খেলেননি। কিন্তু ভিন্ন ধরনের স্ট্রাইকার হিসেবে কোনো কোনো ম্যাচে তার প্রয়োজন পড়বেই।’
শুধু আক্রমণভাগ নয়, স্পেনের রক্ষণভাগেরও প্রশংসা করেন আজপিলিকুয়েতা। তার মতে, এখন পর্যন্ত কোনো গোল না খাওয়ায় দলের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।
গোলরক্ষক উনাই সিমনের অভিজ্ঞতা, আয়মেরিক লাপোর্তের নেতৃত্ব এবং রদ্রির নিয়ন্ত্রণক্ষমতারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। বিশেষ করে রদ্রিকে তিনি রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আজপিলিকুয়েতার বিশ্বাস, বলের দখল ধরে রাখা এবং দ্রুত বল পুনরুদ্ধারের সক্ষমতার কারণেই স্পেন রক্ষণেও এতটা শক্তিশালী।
শেষে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমান দলে থাকা অনেক খেলোয়াড়ই অনূর্ধ্ব পর্যায় থেকে তার অধীনে খেলেছে। ফলে কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সম্পর্ক অনেকটা অভিভাবক ও সন্তানের মতো। এই আস্থা ও ঐক্যই দীর্ঘ টুর্নামেন্টে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
তার মতে, ‘লামিনে ইয়ামাল অবশ্যই দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। কিন্তু স্পেনের আসল শক্তি একজন নয়, পুরো দল। আর এই দল প্রতিদিনই আরও উন্নতি করছে।’
সূত্র: বিবিসি