মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন করে জনশক্তি রফতানি পরিধি বাড়ানোর আগে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের জোর দাবি জানিয়েছে দেশটির বেসরকারি মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংস্থা ‘তেনাগানিতা’।
নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আগে বিদ্যমান সংকট সমাধানের দাবি মালয়েশিয়ান মানবাধিকার সংস্থার
মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন করে জনশক্তি রফতানির পরিধি বাড়ানোর আগে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধানের জোর দাবি জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকারবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা তেনাগানিতা।
সোমবার (২২ জুন) এক বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক গ্লোরিন এ. দাস বলেন, নতুন কোনো শ্রম অভিবাসন কর্মসূচি চালুর আগে সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় এসে বর্তমানে বেকার, অর্ধ-বেকার, ঋণগ্রস্ত কিংবা অনথিভুক্ত হয়ে পড়া কর্মীদের পরিস্থিতি নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা জরুরি।
তিনি বলেন, হাজার হাজার কর্মী বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় এসেও যখন পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না, ঋণের বোঝা বহন করছেন এবং নিজেদের কোনো দোষ ছাড়াই অনথিভুক্ত হয়ে পড়ছেন, তখন নতুন করে কর্মী নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অনেক বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় কাজের সুযোগ পেতে জমি-জমা বিক্রি করেছেন অথবা উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে বিপুল পরিমাণ অভিবাসন ব্যয় বহন করেছেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তারা প্রতিশ্রুত চাকরি না পাওয়া, চুক্তির শর্ত পরিবর্তন কিংবা নিয়োগকর্তার ব্যর্থতার মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে তেনাগানিতা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া—উভয় দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, নিয়োগ জালিয়াতি, চুক্তি লঙ্ঘন, কর্মসংস্থানের অভাব, ঋণের ফাঁদ এবং নিয়োগকর্তার ব্যর্থতার কারণে অনথিভুক্ত হয়ে পড়া কর্মীদের প্রকৃত সংখ্যা ও অবস্থা নির্ধারণে একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।
সংস্থাটি বলেছে, শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই ব্যবসায়িক মুনাফার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। পুরোনো ভুক্তভোগী কর্মীদের সমস্যা অমীমাংসিত রেখে নতুন কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনথিভুক্ত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সবাইকে অপরাধী হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ তাদের অনেকেই বৈধভাবে প্রবেশ করার পর নিয়োগকর্তার প্রতারণা, ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে ব্যর্থতা, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা শোষণমূলক কর্মপরিবেশের কারণে অনথিভুক্ত হয়ে পড়েছেন।
এ কারণে তেনাগানিতা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে অধিকারভিত্তিক একটি বৈধকরণ প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানিয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা গ্রেফতার বা শাস্তির আশঙ্কা ছাড়াই পুনরায় বৈধ মর্যাদা ফিরে পেতে পারেন।
একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থার সংকটের জন্য দায়ী নিয়োগকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি একটি সমন্বিত জাতীয় শ্রম অভিবাসন নীতিমালা প্রণয়নেরও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।