হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স। ইসরায়েল বলছে, হিজবুল্লাহর ছোড়া প্রজেক্টাইলে জবাব দিতেই তারা এই হামলা চালিয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, দক্ষিণাঞ্চল এবং বেকা উপত্যকার একাধিক স্থানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, রাতে হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর দিকে ৫০টির বেশি প্রজেক্টাইল ছোড়ে। এর জবাবে ‘হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং হিজবুল্লাহর হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। তবে তারা রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি নাগরিক বা সেনাদের ওপর হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানায়, তারা যুদ্ধবিরতি মানতে চায়, তবে ইসরায়েল যদি দখলদারিত্ব বাড়ায়, তাহলে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।
গোষ্ঠীটি দাবি করে, ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহের পাহাড়ি এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে। এরপর সংঘর্ষ শুরু হলে ইসরায়েল বিমান হামলা চালায়।
হিজবুল্লাহর এক নেতা বলেন, ‘অধিকৃত লেবাননি ভূখণ্ডে ইসরায়েলকে স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়া হবে না।’
এই হামলাগুলো কয়েক মাসের সহিংসতা থামানোর জন্য করা যুদ্ধবিরতির কতটা ভঙ্গুর, তা আবারও সামনে এনেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান একটি অস্থায়ী শান্তি উদ্যোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলায় দক্ষিণ লেবাননের টাইর জেলার বারিশ শহরে একটি তিনতলা বাড়ি ধ্বংস হয়। এতে একই পরিবারের বাবা, মা ও দুই সন্তান নিহত হন।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানায়, নাবাতিয়েহ–কফররুমান সড়কে ইসরায়েলি হামলায় তাদের একজন সেনাও নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র বলেন, হিজবুল্লাহ যদি শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ করে, তাহলে শান্তি সম্ভব। তবে নিরাপত্তা অঞ্চলে তাদের অভিযান হুমকি দূর করার জন্য, বেসামরিকদের লক্ষ্য করে নয়—এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার বিকেল ৪টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং দুই পক্ষই তা নিশ্চিত করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৩,৯১২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও চিকিৎসকও রয়েছেন। ইসরায়েল বলছে, একই সময়ে তাদের ৩২ জন সেনা ও ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতায় লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সব পক্ষের সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে ইসরায়েল বলছে, তারা আলোচনার অংশ না হওয়ায় এমন শর্ত তাদের লেবানন অভিযানকে সীমিত করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স