চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। গত ১৭ দিনের ব্যবধানে একাধিক খুন, অপহরণ, ছিনতাই, চুরি ও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। একের পর এক আলোচিত ঘটনায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকেই পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধের ঘটনা বাড়তে থাকে। ২ জুন ভাটিখাইন ইউনিয়নের ঠেগরপুনি খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ৬ জুন জিরি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাইদাইর এলাকায় দেলোয়ার হোসেন রুবেল নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা।
এর মাত্র তিন দিন পর, ৯ জুন কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন পংকজ শীল। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিলক চক্রবর্তী। পংকজ হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই নিখোঁজ হয় পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার পাঁচ বছরের শিশু জায়হান।
পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে খুঁজে পেতে দিশেহারা হয়ে পড়েন। নিখোঁজের দুই দিন পর ভোরে বাড়ির অদূরে একটি ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুরো পটিয়াজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
এদিকে কুসুমপুরা ইউনিয়নে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খুন হন প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও রেহাই পায়নি অপরাধীদের হাত থেকে। সম্প্রতি পোস্ট অফিস এলাকার মকবুল শাহ (রহ.) মাজারের দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সর্বশেষ বুধবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরাকান সড়কের পটিয়া অংশের গৈড়লার টেকে সংঘটিত হয় ভয়াবহ ছিনতাইয়ের ঘটনা। সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা এক ভিডিওগ্রাফারসহ দুজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাদের মোটরসাইকেল, ক্যামেরা ও অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরাধীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। রাতের বেলায় অনেকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
তবে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আলোচিত ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ সফল হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে।”
সাম্প্রতিক অপরাধ প্রবণতা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পটিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়তে পারে। একের পর এক রক্তাক্ত ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় শান্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত পটিয়া ধীরে ধীরে আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।