রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্ট ২০২৬-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সংঘাত প্রতিরোধে আরও বেশি বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের জন্য চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একমাত্র কার্যকর ও টেকসই সমাধান।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি নগুয়েন মিন ভু-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।