জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালী বিধি ও সংবিধান অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, সংসদ হুটহাট করে কথা বলার জায়গা নয়; এখানে বক্তব্য দিতে হলে নির্ধারিত নিয়ম ও সময় মেনে চলতে হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডার নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকের শুরুতে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান এবং রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে এসব মন্তব্য করেন।
স্পিকার বলেন, ‘সংসদ পরিচালিত হয় কার্যপ্রণালী বিধি ও সংবিধানের ভিত্তিতে। এখানে ৩৫০ জন সদস্যেরই সমান অধিকার রয়েছে। তবে সংসদের কার্যক্রম নির্দিষ্ট আইন ও বিধির মধ্যেই সম্পন্ন হয়।’
পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার সঠিক সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। বাজেট অধিবেশনের সময় সাধারণত পয়েন্ট অব অর্ডার কম গ্রহণ করা হয়, কারণ এ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলে।
তিনি আরও বলেন, ‘যখন ইচ্ছা দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়া সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে হলে বিধি অনুযায়ী নোটিশ দিতে হয়।’
সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের একটি প্রসঙ্গের জবাবে স্পিকার বলেন, তিনি মাথা নত করে সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন, যা তার কাছে সংসদীয় রীতির পরিপন্থী বলে মনে হয়েছে—এ নিয়েই তিনি পয়েন্ট অব অর্ডার তুলেছেন।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীনের পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয়ে স্পিকার বলেন, ‘আপনার অনুভূতির প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। আপনি শিক্ষক ও বেতন না পাওয়া পৌর কর্মচারীদের কষ্টের কথা বলেছেন। কিন্তু সবকিছুর একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সংসদকে মুখোমুখি চালানো যায় না। কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে হলে আগে নোটিশ দিতে হয়। ভবিষ্যতে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে কথা বলার অনুরোধ রইলো।’
স্পিকার আরও বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডার কেবল চলমান বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়া উচিত এবং সংসদীয় রীতিনীতি বজায় রাখা সব সদস্যের দায়িত্ব।