‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ, তখন সেই উন্মাদনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের প্রতি ভালোবাসা, বিশ্বকাপের আবেগ এবং বাংলাদেশের স্বপ্নকে একসূত্রে গেঁথে নোবিপ্রবি ফিল্ম সোসাইটি আয়োজন করেছে ব্যতিক্রমধর্মী ফ্ল্যাশ মব ও ক্যাম্পেইন ভিডিও ‘ওয়েভিং ফ্ল্যাগ’।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে নির্মিত এই আয়োজনটি শুধু একটি ভিডিও নয়; বরং ফুটবলপ্রেম, তারুণ্যের শক্তি এবং লাল-সবুজের স্বপ্নের এক প্রাণবন্ত উপস্থাপন। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আবহ, যেখানে ফুটবলকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও আবেগ পেয়েছে নতুন ভিজ্যুয়াল রূপ।
ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইতোমধ্যে এটি মিলিয়ন ভিউ অতিক্রম করেছে এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে দেশ-বিদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এই আয়োজন।
এসিসিই বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিকুন্নাহার নিহা বলেন, নোবিপ্রবি ফিল্ম সোসাইটির ‘ওয়েভিং ফ্ল্যাগ’ ভিডিওটি অসাধারণ। এটি শুধু আনন্দই দেয়নি, আবেগেও আপ্লুত করেছে। বিভিন্ন দেশের সমর্থন, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং বিশেষ করে বাংলাদেশকে ঘিরে আমাদের স্বপ্ন খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী সিজান বলেন, বিশ্বকাপ উন্মাদনা এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাকে একসঙ্গে তুলে ধরার এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি আমাদের ক্যাম্পাসকে নতুনভাবে পরিচিত করেছে।
এই আয়োজনের পেছনের গল্পও কম চ্যালেঞ্জের নয়। নোবিপ্রবি ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি নাহিদ পারভেজ জানান, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আবেগ ও ফুটবলপ্রেম থেকেই এ উদ্যোগের সূচনা। শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে কোরিওগ্রাফি, শুটিং এবং সার্বিক সমন্বয় ছিল বেশ কঠিন একটি কাজ।
তিনি বলেন, লোকেশন নির্বাচন থেকে শুরু করে শট ডিজাইন, কোরিওগ্রাফি ও প্রোডাকশন—সবকিছুই পরিকল্পিতভাবে করতে হয়েছে। সীমিত বাজেট ও লজিস্টিকসের মধ্যেও আমরা একটি প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর ভিজ্যুয়াল তৈরি করতে পেরেছি।
আয়োজনটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানিসহ বিভিন্ন দলের সমর্থক শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করেছেন। ফলে ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি এখানে ফুটে উঠেছে ঐক্য, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের বার্তা।
ভিডিও প্রকাশের পর ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে, তা আয়োজকদের আরও বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। নাহিদ পারভেজ জানান, ভবিষ্যতেও নোবিপ্রবি ফিল্ম সোসাইটি ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রভিত্তিক আরও বৃহৎ পরিসরের সৃজনশীল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।
ফ্ল্যাশ মবটি প্রকাশের পর ক্যাম্পাসজুড়ে বিশ্বকাপের আবহ যেন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের আড্ডা, ম্যাচ বিশ্লেষণ, দলীয় সমর্থন এবং ফুটবলকেন্দ্রিক আলোচনায় মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। পুরো ক্যাম্পাস যেন পরিণত হয়েছে এক ক্ষুদ্র বিশ্বকাপ উৎসবে।
নোবিপ্রবি ফিল্ম সোসাইটির এই আয়োজন কেবল বিশ্বকাপ উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি তরুণদের সৃজনশীলতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং স্বপ্ন দেখার সাহসেরও প্রতিচ্ছবি। আর সেই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে