যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের মধ্যে একটি বড় অংশ ইরান যুদ্ধ এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে তাঁর প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে একমত নন—এমন তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক জরিপে।
রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপ অনুযায়ী, ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের প্রায় অর্ধেক মনে করেন, ইরানে সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং অভিবাসন আইন কঠোর করার নীতি তাঁদের খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধ বা ধর্মীয় ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জরিপে অংশ নেওয়া এই গোষ্ঠীর ৫৪ শতাংশ বলেছেন, ইরানে সামরিক পদক্ষেপ তাদের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যায় না। বিপরীতে ৪১ শতাংশ একে সমর্থনযোগ্য বলে মনে করেন। একইভাবে ৫১ শতাংশ ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিকে খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধবিরোধী হিসেবে দেখছেন, যেখানে ৪৪ শতাংশ এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে এসব মতপার্থক্য সত্ত্বেও ট্রাম্পের প্রতি ইভানজেলিক্যালদের সমর্থন এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি। সর্বশেষ জরিপে এই গোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা ৫২ শতাংশ, যা গত আগস্টে ছিল ৬১ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মধ্যে তাঁর সমর্থন হার ৩৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ইরান সংঘাতের পর জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে, যার প্রভাব ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় পড়ছে।
ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানরা দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকান পার্টির গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের নির্বাচনে শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিক্যাল ভোটারদের ৮১ শতাংশ ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিলেন বলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য বলছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রসার এবং গর্ভপাতবিরোধী অবস্থানসহ নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ভোটার গোষ্ঠীর সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে জরিপে অংশ নেওয়া কিছু ভোটার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভিন্ন মতও দিয়েছেন। ইন্ডিয়ানার এক ভোটার স্যান্ডি মিলার বলেন, সামাজিক নীতি ও স্বাস্থ্যসেবার পরিবর্তনের কারণে তাঁর অবস্থান বদলেছে এবং সুযোগ পেলে তিনি আর ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না।
অন্যদিকে কিছু ইভানজেলিক্যাল ভোটার ট্রাম্পের ইরান নীতিকে ধর্মীয় বা বাইবেলভিত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমর্থন করছেন বলেও জরিপে উঠে এসেছে।
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপটি ৩ থেকে ৮ জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫৩১ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়।