বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌম সমতা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
শুক্রবার (১২ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোর দ্বিতীয় দিনে স্থানীয় একটি হোটেলে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের জনগণ যেন বাস্তব ও প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হয়, সে ধরনের টেকসই সম্পর্ক গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এবারের মেলায় বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ সেই অগ্রগতিরই প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, কুনমিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, আস্থা ও সহযোগিতার প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, এই সম্পর্ক বছরের পর বছর ধরে আরও দৃঢ় হয়েছে।
‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ: ল্যান্ড অব অপরচুনিটিজ’ শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং এটি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের জন্য একটি উন্মুক্ত আহ্বান—এমন মন্তব্য করে তিনি ইউনানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, ইউনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর লিউ ইয়াং, ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল লি ই, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের প্রেসিডেন্ট লিউ কি লিন।
এ সময় কুনমিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সফরসঙ্গী ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ‘বাংলাদেশ ডে’ উপলক্ষে বিকেলে একই ভেন্যুতে ‘লাদেশ: সোর্সিং উইথ কোয়ালিটি অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
আলোচনায় অংশ নেন চীনে নিযুক্ত কমার্শিয়াল কাউন্সিলর, ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বাংলাদেশ ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার গুডস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।
সেমিনারে দুই দেশের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে মেলার দ্বিতীয় দিনেও বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নসহ বিভিন্ন দেশের স্টল পরিদর্শন করেন।
দশম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রফতানি মেলা ১১ জুন শুরু হয়ে ১৬ জুন পর্যন্ত চলবে। এতে বিশ্বের ৬৮টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-এর ব্যবস্থাপনায় এবং কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় এবারের মেলায় বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক ১০১টি প্রতিষ্ঠানের ১৭৫ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্য ও হস্তশিল্পসহ দেশের প্রধান রফতানি খাতের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।