বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন সিপিডির

অনলাইন ডেস্ক

জাতীয়

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর

2026-06-12T17:00:24+00:00
2026-06-12T17:01:00+00:00
  শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
জাতীয়
বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন সিপিডির
অনলাইন ডেস্ক
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৫:০০ পিএম  আপডেট: ১২.০৬.২০২৬ ৫:০১ পিএম
বাজেট নিয়ে মিডিয়া ব্রিফিং করে সিপিডি
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর মতে, বাজেটের সামষ্টিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করা বাস্তবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনসহ সংস্থাটির গবেষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটের লক্ষ্য ও ঘোষিত অঙ্গীকারের সঙ্গে নীতিগতভাবে দ্বিমত নেই, তবে এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি, উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের মতো লক্ষ্য অর্জনে বাজেট কিছু ইতিবাচক দিক দেখালেও ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে আমদানি প্রতিস্থাপন ও রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা ও সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তবে একদিকে শুল্ক ও কর বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে রপ্তানি খাতে ছাড়—এ ধরনের নীতিগত ভারসাম্যের কার্যকারিতা বাস্তব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

সিপিডির এই ফেলো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড এবং পরিবেশবান্ধব খাতে কিছু উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়েই মূল চ্যালেঞ্জ।

মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, বাজেটের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো প্রাক্কলনের ভিত্তি। রপ্তানি, আমদানি, বিনিয়োগ, ঋণ প্রবাহ, রাজস্ব আহরণ এবং মূল্যস্ফীতি—সব সূচকেই যে ধারণার ওপর বাজেট দাঁড় করানো হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক থাকলেও বছর শেষে ৮.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে। একইভাবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে অনুমান করা হয়েছে, যা বাস্তবে অর্জন কঠিন হতে পারে।

রাজস্ব আহরণে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য এবং প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাজেট এমন একটি ধারণার ওপর তৈরি হয়েছে যেখানে অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনীতিতে হঠাৎ বড় ধরনের গতি ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তব অর্থনৈতিক সূচকগুলো সেই আশাবাদের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না।

মোস্তাফিজুর রহমান সতর্ক করে বলেন, সেপ্টেম্বরের দিকে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ পেলে বাজেটের প্রাক্কলন ও বাস্তব অবস্থার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যেতে পারে।

সবশেষে তিনি বলেন, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য। বাস্তবায়ন সক্ষমতা দুর্বল থাকলে বাজেটের বড় লক্ষ্যগুলো অর্জন করা কঠিন হবে।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: